আশা নিয়ে হংকং গেলেন হামজারা

- আপডেট: ০২:০০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
- / 53
যে ম্যাচের ফল ৩-৩ হওয়ার পথে ছিল, সেই ম্যাচের শেষ মিনিটে অপ্রত্যাশিত এক গোলে কোটি বাঙালির হৃদয় ভেঙে যায়। জাতীয় স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় ফ্লাডলাইটের আলোর মধ্যেও হামজা চৌধুরী-শেখ মোরসালিনদের চোখেমুখে ছিল অন্ধকার। বৃহস্পতিবার রাতে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে হংকংয়ের কাছে ৪-৩ গোলে হারের কষ্টে সারারাত ঘুমাতে পারেননি ফুটবলাররা। হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার দল গতকাল সেই হংকংয়ের বিপক্ষেই ফিরতি লেগ খেলতে দেশ ছেড়েছে। এশিয়ান কাপে মূল পর্বে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবুও বাকি তিন ম্যাচে জয়ের আশা অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার। বাছাইয়ে প্রথম জয়টি লাল-সবুজের দলটি পেতে চায় ১৪ অক্টোবর হংকংয়ের বিপক্ষেই।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের (১৮৪) চেয়ে ৩৮ ধাপ এগিয়ে হংকং। তাদের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে সেট পিসে হামজার বিশ্বমানের গোলে জয়ের স্বপ্ন উঁকি দেয়। কিন্তু প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রক্ষণের ভুলে হংকং সমতা ফেরায়। বিরতির পর হংকং ৩-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু ৬০ মিনিট পর চার বদলিতে পাল্টে যায় বাংলাদেশের খেলার চিত্র। চার প্রবাসী জামাল ভূঁইয়া, শমিত সোম, জায়ান আহমেদ ও ফাহমিদুল প্রতিপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করে খেলেন। শেখ মোরসালিন ও শমিতের গোলে অবিশ্বাস্য কামব্যাকের গল্প লেখে বাংলাদেশ। প্রত্যাবর্তনের এই গল্পটি ইতিহাসের পাতায় লেখা হতো যদি শেষ মিনিটে স্বপ্নভঙ্গের গোলটি হজম না করত। সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে অনেকেরই মত জামাল, জায়ান, শমিত আর ফাহিমদুলকে শুরু থেকে খেলালে হারতে হতো না।
অধিনায়ক হিসেবে প্রতি ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জামাল ভূঁইয়া। কিন্তু শুরুর একাদশ তো দূরের কথা বদলি হিসেবে ভারত ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জামালকে নামাননি ক্যাবরেরা। দেশ ছাড়ার আগে শুক্রবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বাংলাদেশ অধিনায়কের কথায় উঠে এসেছে ক্ষোভ আর অসন্তোষ, ‘আমি, শমিত, ফাহামিদুল, জায়ান একসঙ্গে ওয়ার্মআপ করি। সে সময় ওদের বলেছি, আমরা যখন নামব তখন ম্যাচের গতিপথ বদলাতে হবে। আমাদের চারজনের ইমপ্যাক্ট ভালো ছিল। চারজনই শুরুর একাদশে খেলতে চাই। সব মিলিয়ে আমরা ভালো খেলেছি।’ কিন্তু কে খেলবেন বা না খেলবেন, তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র কোচের। জামালও তেমনি বলেছেন, ‘আমি যখন না খেলি সেটা তো ভুল, এটা আমি বলব। আমি সব ম্যাচ খেলতে চাই। কিন্তু দিন শেষে কারা খেলবে, এটা কোচের সিদ্ধান্ত। আমি চাই খেলতে।’
শুধু জামালই নন, হংকং ম্যাচে জায়ান ও শমিত সোমের মতো প্রবাসীকে দেরিতে নামানোয় ক্যাবরেরার সমালোচনা চলছে। বদলি হিসেবে জায়ান নামার পর বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ বাঁধতে থাকেন একের পর এক। তাঁকে আগে না নামানোর যুক্তি এভাবেই দিয়েছেন ক্যাবরেরা, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল তাকে দ্বিতীয়ার্ধে খেলানোর। প্রথমার্ধে আমরা চেয়েছিলাম এভারটনের বিপক্ষে এমন একজন খেলুক, যার ডুয়েলে অভিজ্ঞতা আছে– যেমন সাদ।’ স্প্যানিশ এ কোচের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি মুখস্থ দল নির্বাচন করেন। একই সঙ্গে দল নির্বাচনে একটি ক্লাবের ফুটবলারদের গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। ফুটবলবোদ্ধা থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে ক্যাবরেরা হটাও রব উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কানেও গেছে। এখন পর্যন্ত বাছাইয়ে বাংলাদেশকে একটিও জয় এনে দিতে না পারা ক্যাবরেরার ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তাবিথ বলেন, ‘এখন এগুলো নিয়ে মন্তব্যের সময় না। (মাত্রই) ম্যাচটা শেষ করেছি। অবশ্যই ম্যাচ-পরবর্তী একটি ব্রিফিং হবে। তখন বিস্তারিত কথা বলব।’
পুরো ৯০ মিনিট মনোসংযোগ ধরে খেলতে না পারার রোগটি বাংলাদেশের পুরোনো। হংকংয়ের বিপক্ষে শেষের ক্ষত ভুলে সামনের তিন ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জামালের, ‘এই দলের একটা ইতিহাস আছে, আমরা শেষ মুহূর্তে গোল হজম করি। এই ম্যাচের আগে আমরা আলাপ করেছি, আমাদের পুরো ম্যাচে মনোযোগী থাকতে হবে। সংবাদ সম্মেলনেও বলেছি, আমরা যদি জিততে চাই বা পয়েন্ট নিতে চাই, আমাদের পুরো ম্যাচে মনোযোগী থাকতে হবে, কিন্তু আমরা পারিনি। আমাদের হাতে তিন ম্যাচ আছে। তিনটি ম্যাচই জিততে হবে। ১ পয়েন্ট হারালেই আমাদের বিদায়। জেতা সম্ভব হবে না কেন? সমর্থকদের ধন্যবাদ। (হংকংয়ের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে) ৩ পয়েন্ট পেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। ইনশাআল্লাহ এবার আমরা কিছু দিতে পারব।’










