বিক্ষোভের জন্য স্বার্থান্বেষী মহলকে দায়ী করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী অলি

- আপডেট: ০২:০৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 103
নেপালে চলমান বিক্ষোভ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা অলি বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলকে দায়ী করেছেন। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ২০ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তিনি।
মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক শেষে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে অলি বলেন, আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হচ্ছে। সংগঠকরা বহুবার কর্মসূচি সমাপ্তির ঘোষণা দিলেও সহিংসতা থামছে না। তার মতে, এতে স্পষ্ট—বিক্ষোভে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ঢুকে পড়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর নেপালের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার ভিত্তিতে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে নিবন্ধনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ২৮ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন না করায় ফেসবুক, এক্স, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে দেশটির তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরা। ৪ সেপ্টেম্বর থেকেই তারা আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয় এবং ৭ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। সোমবার তা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে কারফিউ অমান্য করে বিক্ষোভে নামে হাজারো মানুষ। আন্দোলনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবির পাশাপাশি সরকারবিরোধী রূপ নেয়। সংঘর্ষে হতাহতের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক পদত্যাগ করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার রাতে জরুরি বৈঠকে বসে সরকার। বৈঠকে ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী অলি।
ভাষণে তিনি বলেন, “সরকার কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে ছিল না, এখনও নেই। আমরা শুধু চাই, এসব মাধ্যম নেপালের আইন ও সার্বভৌমত্ব মেনে চলুক।” সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত।”










