০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়েকে ২০টি রেল ইঞ্জিন দিচ্ছে চীন

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট: ১২:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 61

বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ (এমজি) লোকোমোটিভ কেনায় ১২৯ কোটি ৫৪ লাখ ডলার (প্রায় ১,৫৯১ কোটি টাকা) অনুদান দিচ্ছে চীন। পুরোনো ইঞ্জিনজনিত সংকট নিরসনে এ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রেল কর্মকর্তারা।

রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ‘চায়না গ্রান্টের আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ’ শীর্ষক প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৬৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন দেবে ১,৫৯১ কোটি টাকা এবং বাকি ৪৪ কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে।

প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময়ে লোকোমোটিভ সরবরাহ ছাড়াও খুচরা যন্ত্রাংশ, যন্ত্রপাতি এবং বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও মেকানিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।

পুরোনো ইঞ্জিনের সংকট

বর্তমানে রেলওয়ের বহরে ৩০৬টি লোকোমোটিভ রয়েছে—এর মধ্যে ১৭৪টি মিটারগেজ। তবে ৭১ শতাংশ এমজি লোকোমোটিভ নকশাগত আয়ুষ্কাল পার করেছে। এর মধ্যে অনেক ইঞ্জিন ৩০ থেকে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে, যেগুলো রক্ষণাবেক্ষণে অস্বাভাবিক খরচ হচ্ছে এবং ঘন ঘন বিকল হচ্ছে।

এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “এমন পুরোনো ইঞ্জিন সচল রাখা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। নির্ভরযোগ্যতা কমে যাওয়ায় ট্রেন বিলম্ব ও বাতিল প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।”

বাড়তি চাহিদা, সেবার চাপ

২০২০ সালের ওয়ার্কিং টাইম টেবিল অনুযায়ী, এমজি রুটে ২০৩টি লোকোমোটিভের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে ১৮২টি। ফলে অন্তত ২১টির ঘাটতি আছে, বাস্তবে তা আরও বেশি। সংকটের কারণে আন্তঃনগর ট্রেনকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে মালবাহী ও লোকাল ট্রেন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

রেল কর্মকর্তাদের মতে, নতুন ২০টি চীনা লোকোমোটিভ যুক্ত হলে যাত্রী ও মালবাহী উভয় সেবায় গতি আসবে, জ্বালানি খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমবে, এবং নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য চলাচল নিশ্চিত হবে। তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ উভয় খাতেই আরও বড় বিনিয়োগ জরুরি।

তাদের মতে, বহরের দুই-তৃতীয়াংশ এমজি ইঞ্জিন আয়ুষ্কাল পার করেছে। সময়মতো প্রতিস্থাপন না হলে শুধু কার্যকারিতা নয়, মূল রুটগুলোর সেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

বাংলাদেশ রেলওয়েকে ২০টি রেল ইঞ্জিন দিচ্ছে চীন

আপডেট: ১২:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ (এমজি) লোকোমোটিভ কেনায় ১২৯ কোটি ৫৪ লাখ ডলার (প্রায় ১,৫৯১ কোটি টাকা) অনুদান দিচ্ছে চীন। পুরোনো ইঞ্জিনজনিত সংকট নিরসনে এ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রেল কর্মকর্তারা।

রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ‘চায়না গ্রান্টের আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ’ শীর্ষক প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৬৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন দেবে ১,৫৯১ কোটি টাকা এবং বাকি ৪৪ কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে।

প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময়ে লোকোমোটিভ সরবরাহ ছাড়াও খুচরা যন্ত্রাংশ, যন্ত্রপাতি এবং বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও মেকানিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।

পুরোনো ইঞ্জিনের সংকট

বর্তমানে রেলওয়ের বহরে ৩০৬টি লোকোমোটিভ রয়েছে—এর মধ্যে ১৭৪টি মিটারগেজ। তবে ৭১ শতাংশ এমজি লোকোমোটিভ নকশাগত আয়ুষ্কাল পার করেছে। এর মধ্যে অনেক ইঞ্জিন ৩০ থেকে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে, যেগুলো রক্ষণাবেক্ষণে অস্বাভাবিক খরচ হচ্ছে এবং ঘন ঘন বিকল হচ্ছে।

এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “এমন পুরোনো ইঞ্জিন সচল রাখা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। নির্ভরযোগ্যতা কমে যাওয়ায় ট্রেন বিলম্ব ও বাতিল প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।”

বাড়তি চাহিদা, সেবার চাপ

২০২০ সালের ওয়ার্কিং টাইম টেবিল অনুযায়ী, এমজি রুটে ২০৩টি লোকোমোটিভের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে ১৮২টি। ফলে অন্তত ২১টির ঘাটতি আছে, বাস্তবে তা আরও বেশি। সংকটের কারণে আন্তঃনগর ট্রেনকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে মালবাহী ও লোকাল ট্রেন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

রেল কর্মকর্তাদের মতে, নতুন ২০টি চীনা লোকোমোটিভ যুক্ত হলে যাত্রী ও মালবাহী উভয় সেবায় গতি আসবে, জ্বালানি খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমবে, এবং নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য চলাচল নিশ্চিত হবে। তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ উভয় খাতেই আরও বড় বিনিয়োগ জরুরি।

তাদের মতে, বহরের দুই-তৃতীয়াংশ এমজি ইঞ্জিন আয়ুষ্কাল পার করেছে। সময়মতো প্রতিস্থাপন না হলে শুধু কার্যকারিতা নয়, মূল রুটগুলোর সেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

শেয়ার করুন