ভেনেজুয়েলার তেলে কেন এত আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের?

- আপডেট: ০৫:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / 16
সফল সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রক্ষমতা ও জ্বালানি তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
কিন্তু ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এত আগ্রহ কেন? কী কারণে এই সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চায় যুক্তরাষ্ট্র?
এসব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে দুই দেশের জ্বালানি তেলের ধরনের ওপরে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালাতি তথ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষ সংস্থা ইউএস অ্যানার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেলের মজুত আছে যুক্তরাষ্ট্রে; কিন্তু এই তেল হালকা, চলতি ভাষায় এ ধরনের অপরিশোধিত তেলকে বলা হয় ‘সুইট ক্রুড’। এ ধরনের তেল গ্যাসোলিন জাতীয় জ্বালানি তৈরির জন্য খুবই উপযোগী, তবে এর বেশি আর তেমন কোনো কাজে আসে না।
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল ভারী ও ঘন। এই তেল উত্তোলন ও পরিশোধনের ক্ষেত্রেও অন্যান্য তেলের তুলনায় বেশি যত্নশীল হতে হয়।
তবে এই ধরনের তেল পরিশোধনের মাধ্যমে উৎকৃষ্টমানের ডিজেল, অ্যাসফল্ট, কারখানায় ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানি, অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতিতে ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানিসহ আরও অনেক ধরনের জ্বলানিপণ্য তৈরি করা সম্ভব।
তাছাড়া ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দেশ হওয়ায় ভৌগলিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কাছাকাছি। ফলে সেখান থেকে তেল নিয়ে আসতে পরিবহন ব্যয়ও অনেক কম পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের।
প্রসঙ্গত, ইআইএ-এর হিসেব অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে মজুত আছে কমপক্ষে ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। বিশ্বের খনিগুলোতে মোট যত তেল মজুত আছে, তার এক পঞ্চমাংশই আছে ভেনেজুয়েলায়।
তবে এত বড় মজুত থাকা সত্ত্বেও দেশটির দৈনিক তেলের উৎপাদন খুবই কম। প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করে ভেনেজুয়েলা। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতিদিন যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ আসে, তার মাত্র দশমিক ৮ শতাংশ আসে ভেনেজুয়েলা থেকে।




















