বাঁকখালী নদীর উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, রাস্তায় অচল যান চলাচল

- আপডেট: ০৬:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 103
কক্সবাজার শহরে বাঁকখালী নদীর জায়গা উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন। সেনাবাহিনীর আশ্বাসে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পর স্বাভাবিক হয়েছে, তবে এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার পর থেকে শহরের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের হাজারো বাসিন্দা গুমগাছতলা থেকে বিমানবন্দর সড়কের দিকে জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল ১০টার দিকে উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত একটি এস্কেভেটর ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, নদীর জায়গা উদ্ধারের নামে তাদের ভিটেমাটি থেকে অবৈধভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
নুনিয়ার ছড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, “নদীর জন্য আমরা জায়গা ছাড়তে রাজি, কিন্তু নিয়ম ও আইনের তোয়াক্কা না করে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, যদিও আমাদের জমির সব কাগজপত্র আছে। জীবন দেব, তবু ঘর ছাড়ব না।”
এ সময় স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “হাইকোর্টের রায় আমরা মানি, তবে প্রশাসন আগে নদীর সীমানা নির্ধারণ করুক। পূর্ণবাসন ছাড়া এভাবে উচ্ছেদ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। আমরা আপনার সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করব।”
বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক একে এম আরিফ উদ্দিন গণমাধ্যমের কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
উচ্ছেদ অভিযান ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৪ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অন্তত ৫৮ একর জায়গা দখলমুক্ত করেছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার কস্তুরাঘাট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় এবং চারজন গ্রেপ্তার হন।
গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট বাঁকখালী নদীর সীমানায় থাকা সব দখলদারের তালিকা তৈরি করে চার মাসের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ৩০ আগস্ট নৌপরিবহন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন কক্সবাজার সফরে এসে সমন্বয় সভায় এই নির্দেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।










