০৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নেপালে জেন জি বিক্ষোভের নেপথ্যে কী?

ইউএনএ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 57

নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ ও সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে অন্তত ষোলজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি নেতৃত্বাধীন সরকার ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্সসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর পর থেকেই রাজধানী কাঠমান্ডুতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভ দমনে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। তবুও আন্দোলন থামেনি। কাঠমান্ডুর এক তরুণ বিক্ষোভকারী বলেন, “ভেতরে কিছু গোষ্ঠী উসকানি দিলেও আমরা ইতোমধ্যে জয়ী হয়েছি।”

কিভাবে শুরু হলো আন্দোলন

আগস্ট ২৮ তারিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছিল নেপাল সরকার। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স, রেডিট বা লিংকডইনের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলো নিবন্ধন করেনি। এরপরই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়।

বর্তমানে টিকটক, ভাইবার, উইটক, নিম্বাস ও পোপো লাইভ নিবন্ধন সম্পন্ন করে দেশটিতে চালু রয়েছে। টেলিগ্রাম ও গ্লোবাল ডায়েরির আবেদন এখনও পর্যালোচনায়।

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য

নেপালে ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী ৩৬ লাখেরও বেশি। অনেকেই এসব প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা চালাতেন। নিষেধাজ্ঞায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রথমে প্রতিবাদ শুরু হয়। পরে তা দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

২৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইউজান রাজভাণ্ডারি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আন্দোলনের সূচনা করেছে। তবে মূলত আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছি।”
আরেক শিক্ষার্থী ইক্ষামা তুমরোক বলেন, “আমরা সরকারের কর্তৃত্ববাদী আচরণের বিরুদ্ধে লড়ছি। পরিবর্তন আমাদের প্রজন্ম থেকেই শুরু হবে।”

সরকারের প্রতিক্রিয়া

সরকার জানিয়েছে, তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করে এবং নাগরিকদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর আগে টিকটক ও টেলিগ্রাম সাময়িক নিষিদ্ধ হয়েছিল। তবে আগস্টে আইন মেনে চলার শর্তে টিকটকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

নেপালে জেন জি বিক্ষোভের নেপথ্যে কী?

আপডেট: ০৬:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ ও সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে অন্তত ষোলজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি নেতৃত্বাধীন সরকার ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্সসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর পর থেকেই রাজধানী কাঠমান্ডুতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভ দমনে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। তবুও আন্দোলন থামেনি। কাঠমান্ডুর এক তরুণ বিক্ষোভকারী বলেন, “ভেতরে কিছু গোষ্ঠী উসকানি দিলেও আমরা ইতোমধ্যে জয়ী হয়েছি।”

কিভাবে শুরু হলো আন্দোলন

আগস্ট ২৮ তারিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছিল নেপাল সরকার। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স, রেডিট বা লিংকডইনের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলো নিবন্ধন করেনি। এরপরই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়।

বর্তমানে টিকটক, ভাইবার, উইটক, নিম্বাস ও পোপো লাইভ নিবন্ধন সম্পন্ন করে দেশটিতে চালু রয়েছে। টেলিগ্রাম ও গ্লোবাল ডায়েরির আবেদন এখনও পর্যালোচনায়।

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য

নেপালে ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী ৩৬ লাখেরও বেশি। অনেকেই এসব প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা চালাতেন। নিষেধাজ্ঞায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রথমে প্রতিবাদ শুরু হয়। পরে তা দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

২৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইউজান রাজভাণ্ডারি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আন্দোলনের সূচনা করেছে। তবে মূলত আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছি।”
আরেক শিক্ষার্থী ইক্ষামা তুমরোক বলেন, “আমরা সরকারের কর্তৃত্ববাদী আচরণের বিরুদ্ধে লড়ছি। পরিবর্তন আমাদের প্রজন্ম থেকেই শুরু হবে।”

সরকারের প্রতিক্রিয়া

সরকার জানিয়েছে, তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করে এবং নাগরিকদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর আগে টিকটক ও টেলিগ্রাম সাময়িক নিষিদ্ধ হয়েছিল। তবে আগস্টে আইন মেনে চলার শর্তে টিকটকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

শেয়ার করুন