মায়ের হাতে খুন ৫ মাসের কন্যাশিশু

- আপডেট: ০৩:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 55
রংপুরের তারাগঞ্জে এক মায়ের হাতে খুন হয়েছে মাত্র ৫ মাসের কন্যাশিশু। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পলাশবাড়ি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু ওই গ্রামের বাবুলাল ও তুলসী রানী দম্পতির দ্বিতীয় কন্যা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটি কান্নাকাটি করায় দাদি পাতানী রানী তাকে মা তুলসি রানীর কাছে দুধ খাওয়ানোর জন্যে তুলে দেন। কিছুক্ষণ পর তুলসি রানী শিশুটিকে ঘরে নিয়ে গিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর রক্তাক্ত দেহ স্বামী বাবুলালকে তুলে দেন। ঘটনার সময় পাতানী রানী চিৎকার করলে গ্রামের লোকজন ছুটে এসে মা তুলসি রানীকে আটক করে রাখেন।
শিশুটির বাবা, হোটেল শ্রমিক বাবু লাল বলেন, “কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। মাসখানেক ধরে বউ অসুস্থ থাকার কারণে বাচ্চাটা আমার মায়ের কাছে থাকত। আজ ভোরে দুধ খাওয়ার জন্য কান্না করছিল। এজন্য ওকে আমার মার কাছে দিয়েছিলাম। মেয়েটার কান্না থামল, কিন্তু এভাবে থামবে ভাবিনি কোনোদিন।”
শ্বাশুড়ি পাতানী রানী বলেন, “৫-৬ দিন ধরে নাতনী আমার কাছেই ছিল। সকালে কান্না করছিল, তাই বউকে দুধ খাওয়াতে দিয়েছি। কিছুক্ষণ পর দেখি ছেলে হাতে করে গলাকাটা বাচ্চা নিয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। বউ শুধু চুপ করে আছে।”
ঘটনার পর আটক তুলসি রানী গণমাধ্যমের সামনে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেছিলেন। প্রতিবেশীরা ধারণা করছেন, শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
তুলসি রানীর ভাই মানিক মিয়া অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “আমার বোন সন্তানদের খুব ভালোবাসে। কিন্তু অসুস্থ থাকলে মানুষ স্বাভাবিক থাকে না। সুস্থ থাকলে এ কাজ কোনোদিন করত না।”
কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সবিত্রী সেন বলেন, “ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। শুনেছি নিহত শিশুর মা মানসিক রোগে ভুগছেন।”
তারাগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ ফারুক জানান, তুলসি রানীকে আটক করা হয়েছে এবং তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন।




















