কেন্দুয়ায় মানব পাচার সন্দেহে চীনা নাগরিকসহ দু’জন আটক

- আপডেট: ০৮:৩৫:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 97
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় মানব পাচারের অভিযোগে এক চীনা নাগরিকসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তিনজন তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর (রবিবার) ভোরে কেন্দুয়া পৌরসভার কমলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃতরা হলেন—চীনা নাগরিক লি ওই হাও (Li Wei Hao) এবং তার সহযোগী বাংলাদেশি নাগরিক মো. ফরিদুল ইসলাম (পিতা-আব্দুল হানিফ মিয়া, গ্রাম-সুখদেব পশ্চিমপাড়া, থানা-রাজারহাট, জেলা-কুড়িগ্রাম)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কমলপুর গ্রামের গার্মেন্টস কর্মী আলফা আক্তার (১৮)-এর সঙ্গে গত ১ সেপ্টেম্বর বিয়ে করেন লি ওই হাও। তিনি দাবি করেন, আগামী ২০ সেপ্টেম্বর আলফাকে চীনে নিয়ে যাবেন এবং এজন্য আলফার পরিবারকে এক লাখ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
১৪ সেপ্টেম্বর আলফা আক্তার তার স্বামীকে পরিবারের কাছে পরিচয় করাতে নিজ গ্রামে আসেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন ফরিদুল ইসলাম এবং আরও দুই তরুণী। তাদের মধ্যে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার বৃষ্টি (১৭)-এর দাবি, কয়েকদিন আগে তার বিয়ে হয়েছে আরেক চীনা নাগরিকের সঙ্গে। এছাড়াও নেত্রকোণার কেন্দুয়ার মোজাফরপুর ইউনিয়নের লিজা আক্তার (২০) তাদের সঙ্গে ছিলেন।
আলফা আক্তারের পরিবারের লোকজন লি ওই হাও-এর কাছে পাসপোর্ট ও বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। একইভাবে সহযোগী ফরিদুল ইসলামও সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে না পারায় সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তাদের আটক রেখে পুলিশে খবর দেন।
পরে কেন্দুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে লি ওই হাও এবং ফরিদুল ইসলামকে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের ভাষ্যমতে, তাদের কথাবার্তায় অসঙ্গতি ও সন্দেহজনক দিক লক্ষ্য করা গেছে।
কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “চীনা নাগরিক ও তার সহযোগীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। উদ্ধার হওয়া তিন তরুণীকে ভিকটিম হিসেবে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।”
উদ্ধার হওয়া তিন তরুণী হলেন—আলফা আক্তার (১৮), পিতা- রুবেল মিয়া, গ্রাম- কমলপুর, কেন্দুয়া পৌরসভা, জেলা- নেত্রকোণা।বৃষ্টি (১৭), পিতা- মৃত বছর উদ্দিন, গ্রাম- গোপীনদী, থানা- মেলান্দহ, জেলা- জামালপুর। লিজা আক্তার (২০), পিতা- মহর উদ্দিন, গ্রাম- গগডা (নানার বাড়ি), ইউনিয়ন- মোজাফরপুর, জেলা- নেত্রকোণা।
স্থানীয়দের ধারণা, আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সঙ্গে এরা জড়িত থাকতে পারে। পুলিশের তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে।










