০৭:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল

ইউএন এ প্রতিনিধি:
  • আপডেট: ০২:৩২:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 54

মালিক শ্রমিক দ্বন্দ্বে তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী-নাটোর হয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে দূরপাল্লার বেশিরভাগ বাস চলাচল। শ্রমিকরা বাস যত্রতত্র দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠানো ও খোরাকি ভাতা বাড়ানো- এমন অভিযোগ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মালিকদের। এসব অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন বাস মালিকপক্ষ।

তবে তৃতীয় দিন একতা শ্যামলীসহ বেশ কিছু বাস চলতে দেখা গেছে। হানিফ, দেশ, ন্যাশন্যালসহ অনেকগুলো বাস বন্ধ ছিল। এতে করে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বজলুর রহমান রতন বাস বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আরও বলেন, শ্রমিকেরা দূরপাল্লার বাস যেখানে সেখানে থামিয়ে যাত্রী তুলতে চাচ্ছে। খোরাকি ভাতা দাবি করছে। যেখানে সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী তুললে তো ব্যবসা করা যাবে না। এটা নিয়ে তাদের সঙ্গে নতুন করে বিরোধের জেরে মালিকরা বাস বন্ধ করে দেয়।

এদিকে আজ বেলা ১২টায় রাজশাহীতে শ্রমিক নেতা ও মালিক পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন উত্তরবঙ্গ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম।

এর আগে চলতি মাসেই বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে দুই দফা বাস বন্ধ করে দেন চালক, হেলপার ও সুপারভাইজাররা।

অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংক লরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ঢাকায় বাস মালিকদের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের বৈঠক সন্তোষজনকভাবে শেষ হয় এবং ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বাস মালিকপক্ষ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগেই একতরফাভাবে বাস বন্ধ করে দিয়েছে। যত্রতত্র বাস দাঁড়ানোর বিষয়টি সত্য নয়। যাত্রী যেখানে নামতে চায়; শুধু সেখানেই নামানো হয়। দু-একজন যাত্রী উঠানো হলেও মালিকপক্ষকে তার হিসাব জমা দেওয়া হয়।

এর আগে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে তিন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস চালানো বন্ধ করে দেন শ্রমিকেরা। দুইদিন পর মালিকপক্ষের আশ্বাসে তারা ফের বাস চালানো শুরু করেন। কিন্তু আশ্বাস অনুযায়ী বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা না হলে ২২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ফের কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল পর্যন্ত একতা ছাড়া বাকি সব বাস চলাচল বন্ধ ছিল।

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল

আপডেট: ০২:৩২:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মালিক শ্রমিক দ্বন্দ্বে তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী-নাটোর হয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে দূরপাল্লার বেশিরভাগ বাস চলাচল। শ্রমিকরা বাস যত্রতত্র দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠানো ও খোরাকি ভাতা বাড়ানো- এমন অভিযোগ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মালিকদের। এসব অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন বাস মালিকপক্ষ।

তবে তৃতীয় দিন একতা শ্যামলীসহ বেশ কিছু বাস চলতে দেখা গেছে। হানিফ, দেশ, ন্যাশন্যালসহ অনেকগুলো বাস বন্ধ ছিল। এতে করে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বজলুর রহমান রতন বাস বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আরও বলেন, শ্রমিকেরা দূরপাল্লার বাস যেখানে সেখানে থামিয়ে যাত্রী তুলতে চাচ্ছে। খোরাকি ভাতা দাবি করছে। যেখানে সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী তুললে তো ব্যবসা করা যাবে না। এটা নিয়ে তাদের সঙ্গে নতুন করে বিরোধের জেরে মালিকরা বাস বন্ধ করে দেয়।

এদিকে আজ বেলা ১২টায় রাজশাহীতে শ্রমিক নেতা ও মালিক পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন উত্তরবঙ্গ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম।

এর আগে চলতি মাসেই বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে দুই দফা বাস বন্ধ করে দেন চালক, হেলপার ও সুপারভাইজাররা।

অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংক লরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ঢাকায় বাস মালিকদের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের বৈঠক সন্তোষজনকভাবে শেষ হয় এবং ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বাস মালিকপক্ষ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগেই একতরফাভাবে বাস বন্ধ করে দিয়েছে। যত্রতত্র বাস দাঁড়ানোর বিষয়টি সত্য নয়। যাত্রী যেখানে নামতে চায়; শুধু সেখানেই নামানো হয়। দু-একজন যাত্রী উঠানো হলেও মালিকপক্ষকে তার হিসাব জমা দেওয়া হয়।

এর আগে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে তিন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস চালানো বন্ধ করে দেন শ্রমিকেরা। দুইদিন পর মালিকপক্ষের আশ্বাসে তারা ফের বাস চালানো শুরু করেন। কিন্তু আশ্বাস অনুযায়ী বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা না হলে ২২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ফের কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল পর্যন্ত একতা ছাড়া বাকি সব বাস চলাচল বন্ধ ছিল।

শেয়ার করুন