পাহাড়ে ফিরছে বিপন্ন ৩৬ প্রজাতির বৃক্ষ

- আপডেট: ১২:০২:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 63
সুউচ্চ পাহাড়, সুবিশাল কাপ্তাই হ্রদ, সবুজের সমারোহ জুড়ে গঠিত পার্বত্য জনপদ রাঙ্গামাটি। একসময় গুরুত্বপূর্ণ বৃক্ষরাজিতে সজ্জিত থাকত এ অঞ্চলের প্রতিটি পাহাড়ের পাদদেশ। তবে অসচেতনভাবে পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং বনদস্যুদের কাঠ পাচারের কারণে কালের বিবর্তনে শত শত গুরুত্বপূর্ণ দামি ও ওষুধিগুণ সম্পন্ন বৃক্ষরাজি বিলীন হয়ে গেছে। পর্বতগুলো হয়ে পড়েছে শ্রীহীন, পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ আর শুনা যায় না।
হারানো সেই সব গুরুত্বপূর্ণ বৃক্ষরাজি নতুন করে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাঙ্গামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ। সরকারের এ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সাল থেকে এ কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রথমে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে কাউখালী উপজেলার খাসখালী রেঞ্জ, ঘাগড়া বিট এলাকায় ৫ দশমিক ২৫০ একর জায়গায় ৫ হাজার ২৫০টি বিলুপ্ত চারা রোপণ করা হয়েছিল। তিন বছর পর ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে খাসখালী রেঞ্জ এবং জেলার লংগদু উপজেলার চার একর জায়গা জুড়ে বিলুপ্ত ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে খাসখালী রেঞ্জ, লংগদু উপজেলা এবং খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ১২ দশমিক ৫ একর জায়গা জুড় বিলুপ্ত ১২ হাজার ৫০০টি চারা রোপণ করা হয়।
এদিকে জেলার কাউখালী উপজেলার খাসখালী রেঞ্জ এলাকায় বিলুপ্ত ৩৬ প্রজাতির বৃক্ষের চারা দিয়ে একটি বাগান সৃজন করেছে। পাশাপাশি সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে বিলুপ্ত প্রজাতি বৃক্ষের বীজ ভান্ডার।
রাঙ্গামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ থেকে জানা গেছে, ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এ বাগান। এ বাগানে রয়েছে- ‘চিকররাশি, কাঠবাদাম, গুটগুটিয়া, অর্জুন, আমলকী, হরতকী, হিজল, ঢাকিজামসহ ১২ প্রজাতির বনজ গাছ, ১৪ প্রজাতির ওষুধি গাছ এবং ১০ প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ। এ গাছগুলো পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পাখিদের খাদ্য যোগানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ বাগানে আরো বেশকিছু দুর্লভ প্রজাতির গাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে। যেমন-‘লোহাকাঠ, চম্পাফুল, তেলসুর, সোনালু, ঢাকিজাম, রাধাচূড়া, কাঠবাদাম, জগা ডুমুর, বান্দর হোলা, শাল, উদাল, বকফুল, তমাল, খেজুর, বহেরা, সিভিট, ধারমারা, অশোক, কাঞ্চনভাদী, কৃষ্ণচূড়া, পিতরাজ, ছাতিয়ান, বোদ্ধ নারিকেল ও পলাশ’।
ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ খাসখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল গফুর খান চৌধুরী বলেন, বাগানটি গড়ে তোলার মূল কারণ হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা। বাগানটি গড়তে বিলুপ্ত গাছের চারাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম থেকে। এছাড়া বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বিভিন্ন জায়গা থেকে চারা এনে বনায়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন বলে যোগ করেন তিনি।
রাঙ্গামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান বলেন, এ অঞ্চল থেকে হারিয়ে যাওয়া দুর্লভ ১০০ প্রজাতির বৃক্ষের তালিকা তৈরি করেছি। এর মধ্যে ৩৬ প্রজাতির বৃক্ষের চারা সংগ্রহ করে বাগান গড়ে তুলেছি। বাগানটি ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা গেলে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে যোগ করেন তিনি। এ বন কর্মকর্তা আরো বলেন, বাগান থেকে চারা বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাত্র সাত টাকায় এখান থেকে সাধারণ মানুষ চারা সংগ্রহ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।




















