০৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশ বদলেছে, কিন্তু মানুষের ভাগ্য বদলায়নি -শায়খে চরমোনাই

ইউএনএ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:২৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 68

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই) বলেছেন “মুসলিম লীগ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শাসন জনগণ দেখেছে। কিন্তু কোনো সরকারের আমলেই সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। শুধু দল বা নেতা পরিবর্তনে শান্তি আসবে না— শান্তি আসবে নীতি ও আদর্শের পরিবর্তনের মাধ্যমে, ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।”

তিনি আরও বলেন, “৪৭ সালে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে আমরা লড়েছিলাম। কিন্তু এখনো সমাজে কায়েমি স্বার্থবাদী লুটেরারা রাষ্ট্র ও সমাজের সবখানে দখল নিয়েছে। যুবসমাজকেই তারা ব্যবহার করছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের হাতিয়ার হিসেবে।”

তিনি বলেন, “মিথ্যার জৌলুস ও অন্যায়ের মরিচিকার পেছনে ছুটে চলা যুবসমাজকে ফিরিয়ে আনতে হবে। সাময়িক স্বার্থচিন্তার কুহেলিকা ভেদ করে তাদের চোখে জ্বালাতে হবে মুক্তির আলো।”
“আমরা উচ্চারণ করেছি— শুধু নেতা নয়, নীতির পরিবর্তন চাই। হেরার আলোকচ্ছটায় উদ্ভাসিত সেই মশালই পারে আজকের অন্ধকার সমাজকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে।”

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব, বলেন “পশ্চিমা দখলদার ও ভারতীয় ব্রাহ্মণ্যবাদী শক্তি বাংলাদেশকে তাদের তাঁবেদার বানাতে চায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক্ষমতার লোভে শাসকরা বিদেশি শক্তির তাবেদারিতে লিপ্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যে ৭২-এর সংবিধানের কারণে দেশ বারবার সংকটে পড়েছে, সেই সংবিধান ভারতের স্বার্থ রক্ষা করে। বিএনপি এখন সেটি টিকিয়ে রাখতে মরিয়া। তাই ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে পারে না। আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, “৪৭-এর দেশভাগ, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং আগামীর কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ— এই তিন পথরেখা আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন বহন করে। যুব সমাজকে ইসলামের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করতে হবে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন আতিকুর রহমান মুজাহিদ, সঞ্চালনায় ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মানসুর আহমদ সাকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ড. আবদুল মোমেন, সহযোগী অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শাহ ইফতেখার তারিক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, ফারহান বাশার, ব্র্যাকের এইচআর অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্র্যাকটিশনার।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, মুফতি জাহিদুজ্জামান, সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস, নজরুল ইসলাম বাবলু, সভাপতি, যুব জাগপা, নাদিম হাসান, সাধারণ সম্পাদক, যুব অধিকার পরিষদ, আবদুল্লাহ আল মাসুদ খান, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামী যুব সমাজ, মাওলানা শাব্বির আহমদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী যুব মজলিস।

স্বাধীনতার প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজন ইসলামী আদর্শভিত্তিক ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা। রাজনৈতিক দল, সংবিধান বা মুখোশধারী পরিবর্তনে নয়, নীতির পরিবর্তনই পারে বাংলাদেশের প্রকৃত মুক্তি আনতে— এমন বার্তাই দেন শায়খে চরমোনাই।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

দেশ বদলেছে, কিন্তু মানুষের ভাগ্য বদলায়নি -শায়খে চরমোনাই

আপডেট: ০৬:২৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই) বলেছেন “মুসলিম লীগ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শাসন জনগণ দেখেছে। কিন্তু কোনো সরকারের আমলেই সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। শুধু দল বা নেতা পরিবর্তনে শান্তি আসবে না— শান্তি আসবে নীতি ও আদর্শের পরিবর্তনের মাধ্যমে, ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।”

তিনি আরও বলেন, “৪৭ সালে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে আমরা লড়েছিলাম। কিন্তু এখনো সমাজে কায়েমি স্বার্থবাদী লুটেরারা রাষ্ট্র ও সমাজের সবখানে দখল নিয়েছে। যুবসমাজকেই তারা ব্যবহার করছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের হাতিয়ার হিসেবে।”

তিনি বলেন, “মিথ্যার জৌলুস ও অন্যায়ের মরিচিকার পেছনে ছুটে চলা যুবসমাজকে ফিরিয়ে আনতে হবে। সাময়িক স্বার্থচিন্তার কুহেলিকা ভেদ করে তাদের চোখে জ্বালাতে হবে মুক্তির আলো।”
“আমরা উচ্চারণ করেছি— শুধু নেতা নয়, নীতির পরিবর্তন চাই। হেরার আলোকচ্ছটায় উদ্ভাসিত সেই মশালই পারে আজকের অন্ধকার সমাজকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে।”

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব, বলেন “পশ্চিমা দখলদার ও ভারতীয় ব্রাহ্মণ্যবাদী শক্তি বাংলাদেশকে তাদের তাঁবেদার বানাতে চায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক্ষমতার লোভে শাসকরা বিদেশি শক্তির তাবেদারিতে লিপ্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যে ৭২-এর সংবিধানের কারণে দেশ বারবার সংকটে পড়েছে, সেই সংবিধান ভারতের স্বার্থ রক্ষা করে। বিএনপি এখন সেটি টিকিয়ে রাখতে মরিয়া। তাই ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে পারে না। আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, “৪৭-এর দেশভাগ, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং আগামীর কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ— এই তিন পথরেখা আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন বহন করে। যুব সমাজকে ইসলামের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করতে হবে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন আতিকুর রহমান মুজাহিদ, সঞ্চালনায় ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মানসুর আহমদ সাকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ড. আবদুল মোমেন, সহযোগী অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শাহ ইফতেখার তারিক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, ফারহান বাশার, ব্র্যাকের এইচআর অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্র্যাকটিশনার।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, মুফতি জাহিদুজ্জামান, সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস, নজরুল ইসলাম বাবলু, সভাপতি, যুব জাগপা, নাদিম হাসান, সাধারণ সম্পাদক, যুব অধিকার পরিষদ, আবদুল্লাহ আল মাসুদ খান, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামী যুব সমাজ, মাওলানা শাব্বির আহমদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী যুব মজলিস।

স্বাধীনতার প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজন ইসলামী আদর্শভিত্তিক ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা। রাজনৈতিক দল, সংবিধান বা মুখোশধারী পরিবর্তনে নয়, নীতির পরিবর্তনই পারে বাংলাদেশের প্রকৃত মুক্তি আনতে— এমন বার্তাই দেন শায়খে চরমোনাই।

শেয়ার করুন