০১:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খাগড়াছড়ি পৌর এলাকা ও সদর উপজেলায় ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

ইউএন এ প্রতিনিধি:
  • আপডেট: ১২:০০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
  • / 79

খাগড়াছড়ি পৌর এলাকা ও সদর উপজেলায় ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার রাত নয়টার দিকে এক পরিপত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ মোতাবেক এ আদেশ প্রত্যাহারের কথা জানান জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, পৌর এলাকা ও সদর উপজেলায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় রোববার সকাল ৬টা থেকে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গুইমারা উপজেলায় জারি করা ১৪৪ ধারা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খোন্দকার জানান, পরিস্থিতি বিবেচনা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়েই গতকাল শনিবার ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ রোববার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি সদরে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হলো।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় জনসাধারণের জান ও মালের ক্ষতিসাধনের আশঙ্কায় খাগড়াছড়ি সদর ও পৌরসভায় ১৪৪ ধারা জারি করেন জেলা প্রশাসক।

এর আগে গতকাল শনিবার সকালে পুরোপুরি অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় জুম্ম ছাত্র-জনতা। জুম্ম ছাত্র-জনতার মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংগঠন থেকে আট দফা দাবিও তুলে ধরা হয়।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই দিন রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় একটি খেত থেকে তাকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শয়ন শীল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর এর প্রতিবাদে জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে গত ২৭ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে অবরোধ ডাকা হয়। পরদিন থেকে তিন পার্বত্য জেলায় অবরোধের ডাক দেয় সংগঠনটি।

অবরোধের মধ্যেই গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ ও সহিংসতায় রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে গুইমারার রামেসু বাজার। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিতে তিনজন নিহত হন।

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

খাগড়াছড়ি পৌর এলাকা ও সদর উপজেলায় ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

আপডেট: ১২:০০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

খাগড়াছড়ি পৌর এলাকা ও সদর উপজেলায় ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার রাত নয়টার দিকে এক পরিপত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ মোতাবেক এ আদেশ প্রত্যাহারের কথা জানান জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, পৌর এলাকা ও সদর উপজেলায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় রোববার সকাল ৬টা থেকে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গুইমারা উপজেলায় জারি করা ১৪৪ ধারা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খোন্দকার জানান, পরিস্থিতি বিবেচনা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়েই গতকাল শনিবার ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ রোববার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি সদরে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হলো।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় জনসাধারণের জান ও মালের ক্ষতিসাধনের আশঙ্কায় খাগড়াছড়ি সদর ও পৌরসভায় ১৪৪ ধারা জারি করেন জেলা প্রশাসক।

এর আগে গতকাল শনিবার সকালে পুরোপুরি অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় জুম্ম ছাত্র-জনতা। জুম্ম ছাত্র-জনতার মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংগঠন থেকে আট দফা দাবিও তুলে ধরা হয়।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই দিন রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় একটি খেত থেকে তাকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শয়ন শীল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর এর প্রতিবাদে জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে গত ২৭ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে অবরোধ ডাকা হয়। পরদিন থেকে তিন পার্বত্য জেলায় অবরোধের ডাক দেয় সংগঠনটি।

অবরোধের মধ্যেই গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ ও সহিংসতায় রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে গুইমারার রামেসু বাজার। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিতে তিনজন নিহত হন।

শেয়ার করুন