ক্যান্সারে আক্রান্ত দিনমজুরের স্ত্রীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিল খুলনা মেডিকেল

- আপডেট: ০৪:০০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
- / 80
দীর্ঘদিন ধরে ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগরের রাশিদা বেগমের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, রাশিদার বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিকিৎসা, ওষুধ, অপারেশনসহ যাবতীয় খরচ বহন করা হবে।
এর আগে টাকার অভাবে সংকটে থাকা ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত রাশিদার করুণ পরিণতি সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রচারের পর মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের বারান্দায় রাশিদা বেগমকে দেখতে যান খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম।
এ সময় তিনি রাশিদার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং নিজেই তার সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা করেন।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী রাশিদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ব্রেস্ট ক্যানসারে ভুগছেন। স্বামী জাহাঙ্গীর হোসেন পেশায় একজন দিনমজুর। দৈনন্দিন জীবনের অভাব-অনটনের মাঝেই তারা কোনো রকমে দিন কাটাতেন। দুই বছর আগে রাশিদার ডান স্তনে একটি টিউমার ধরা পড়ে। তখন স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে অপারেশনের মাধ্যমে টিউমারটি অপসারণ করা হয়, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘বায়োপসি’ না হওয়ায় রোগটি যে ক্যানসারজনিত তা তখন শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে ধীরে ধীরে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্যানসার শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে রাশিদা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তার ডান স্তনে পচন ধরেছে, ক্ষতস্থানে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। অসহ্য যন্ত্রণায় কাতর এ নারী এখন হাসপাতালের শয্যায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন পার করছেন।
রাশিদার স্বামী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘খুলনা মেডিকেল কলেজের ডাক্তার ও প্রশাসন আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, এটা যেন আল্লাহর রহমত ছাড়া কিছু নয়। আমরা তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।’
ডা. মো. কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যেই তার ব্রেস্টে একটি সার্জারি করা হয়েছে। তার ছয়টি কেমো সাইকেল হবে। ইতোমধ্যে ৪টি হয়েছে। বাকি দুটো হওয়ার পর আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। টিউমারটির সাইজ যখন ছোট হয় আসবে এরপর তার পূর্ণাঙ্গ অপারেশন করা হবে। খুলনা মেডিকেল কলেজের পক্ষ থেকে রাশিদাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। আমাদের এখানে মাত্র ৫০০ বেড আছে। কিন্তু ১ হাজার ৬০০ রোগী আছে। তারপরেও একটি বেডের ব্যবস্থা করার জন্য আমি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি।




















