০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশিদের ভিসা প্রত্যাখ্যানে দায় আমাদেরই -পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট: ১১:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / 72

ছবি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌ‌হিদ হো‌সেন

বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশিদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করছে—এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, “এই অবস্থার জন্য আমরাই দায়ী।”

বুধবার (৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তৌহিদ হোসেন বলেন, “সামগ্রিকভাবে দেশের সুনাম প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এর ফলে বিদেশে ভিসা পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে গেছে। আমি নিজেও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিসা প্রত্যাখ্যান নিয়ে ব্যাপক হতাশা তৈরি হয়েছে।”

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “জার্মানিতে উচ্চমানের ও বিনামূল্যের শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিপুল আগ্রহ দেখাচ্ছে। এবার ৮০ হাজার আবেদন পড়েছে, কিন্তু জার্মান দূতাবাসের বার্ষিক সক্ষমতা মাত্র দুই হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করা। অর্থাৎ তারা এত বিপুল আবেদন গ্রহণ করতে পারছে না।”

তৌহিদ হোসেন জানান, “পাকিস্তান থেকে প্রতিবছর জার্মানি নয় হাজার শিক্ষার্থী নেয়। আমরা অনুরোধ করেছি যেন তারা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সমান সুযোগ দেয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনায় আছি।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব দেশের দূতাবাস বাংলাদেশে নেই, সেসব দেশের ভিসা পাওয়ার জটিলতা বেড়েছে। বিশেষ করে যারা শিক্ষা বা কাজের জন্য বিদেশ যেতে চান, তারা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। অনেক দেশ পর্যটকদের জন্য অনলাইন ভিসা চালু করলেও, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সশরীরে সাক্ষাৎকার দিতে হয়, যা এখন বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “ভারতে এখন ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। ফলে বাংলাদেশিদের দিল্লিতে অবস্থিত তৃতীয় দেশের দূতাবাসে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। আমরা বিকল্প পথ খুঁজছি। যেমন—সার্বিয়ার ভিসা একবার ভিয়েতনাম থেকে নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। একইভাবে আমরা চাইছি অন্য দেশগুলোও বিকল্প দূতাবাস নির্ধারণ করুক, যাতে বাংলাদেশিরা ভিসা নিতে পারে।”

তিনি বলেন, “ভিসা হচ্ছে সম্পূর্ণ সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। কোনো দেশকে আপনি বাধ্য করতে পারবেন না যে কেন তারা ভিসা দিচ্ছে না। তবে এ নিয়ে আমরা কূটনৈতিকভাবে নিয়মিত কথা বলছি এবং সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রেসিডেন্স ভিসা-র ক্ষেত্রে জটিলতা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

বাংলাদেশিদের ভিসা প্রত্যাখ্যানে দায় আমাদেরই -পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট: ১১:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশিদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করছে—এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, “এই অবস্থার জন্য আমরাই দায়ী।”

বুধবার (৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তৌহিদ হোসেন বলেন, “সামগ্রিকভাবে দেশের সুনাম প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এর ফলে বিদেশে ভিসা পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে গেছে। আমি নিজেও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিসা প্রত্যাখ্যান নিয়ে ব্যাপক হতাশা তৈরি হয়েছে।”

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “জার্মানিতে উচ্চমানের ও বিনামূল্যের শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিপুল আগ্রহ দেখাচ্ছে। এবার ৮০ হাজার আবেদন পড়েছে, কিন্তু জার্মান দূতাবাসের বার্ষিক সক্ষমতা মাত্র দুই হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করা। অর্থাৎ তারা এত বিপুল আবেদন গ্রহণ করতে পারছে না।”

তৌহিদ হোসেন জানান, “পাকিস্তান থেকে প্রতিবছর জার্মানি নয় হাজার শিক্ষার্থী নেয়। আমরা অনুরোধ করেছি যেন তারা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সমান সুযোগ দেয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনায় আছি।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব দেশের দূতাবাস বাংলাদেশে নেই, সেসব দেশের ভিসা পাওয়ার জটিলতা বেড়েছে। বিশেষ করে যারা শিক্ষা বা কাজের জন্য বিদেশ যেতে চান, তারা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। অনেক দেশ পর্যটকদের জন্য অনলাইন ভিসা চালু করলেও, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সশরীরে সাক্ষাৎকার দিতে হয়, যা এখন বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “ভারতে এখন ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। ফলে বাংলাদেশিদের দিল্লিতে অবস্থিত তৃতীয় দেশের দূতাবাসে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। আমরা বিকল্প পথ খুঁজছি। যেমন—সার্বিয়ার ভিসা একবার ভিয়েতনাম থেকে নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। একইভাবে আমরা চাইছি অন্য দেশগুলোও বিকল্প দূতাবাস নির্ধারণ করুক, যাতে বাংলাদেশিরা ভিসা নিতে পারে।”

তিনি বলেন, “ভিসা হচ্ছে সম্পূর্ণ সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। কোনো দেশকে আপনি বাধ্য করতে পারবেন না যে কেন তারা ভিসা দিচ্ছে না। তবে এ নিয়ে আমরা কূটনৈতিকভাবে নিয়মিত কথা বলছি এবং সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রেসিডেন্স ভিসা-র ক্ষেত্রে জটিলতা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শেয়ার করুন