০৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

দেবীগঞ্জে স্কয়ার ক্লিনিকের গাফিলতিতে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু

বদরুদ্দোজা প্রধান, পঞ্চগড়
  • আপডেট: ০৮:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
  • / 79

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সিজারিয়ান অপারেশনের ১২ ঘণ্টার মাথায় কৃষ্ণা রানী (২২) নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের অবহেলা, সেবা ঘাটতি এবং চিকিৎসক না থাকার কারণে এই মৃত্যু ঘটেছে।

প্রয়াত কৃষ্ণা রানী দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের প্রেমবাজার এলাকার ধর্ম নারায়ণের স্ত্রী। চার বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে দেবীগঞ্জ পৌর শহরের করতোয়া সেতু টোলপাড় সংলগ্ন স্কয়ার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কৃষ্ণাকে সিজার অপারেশনের জন্য ভর্তি করা হয়। বিকেল ৩টার পর অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলে ডা. শিখা মনি অপারেশন সম্পন্ন করেন। কৃষ্ণা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

কিন্তু অপারেশনের পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরিবার জানায়, বেডে নেওয়ার পর থেকেই কৃষ্ণা বুক ধড়ফড় ও পায়ে ব্যথার অভিযোগ করছিলেন। রাত ২টা পর্যন্ত ক্লিনিকে রাখা হয় তাকে। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুরে নেওয়ার পথে নীলফামারী পৌঁছালে কৃষ্ণা মারা যান।

প্রয়াত কৃষ্ণার শাশুড়ি কনিকা রায় বলেন, বউমা বুক ধড়ফড় করছে, পেট ফুলে উঠেছে—বারবার ডাক্তার ডাকলেও কেউ আসেননি। শুধু নার্স এসে দেখে যাচ্ছিল।

স্বামী ধর্ম নারায়ণ জানান, বিয়ের আগেই স্ত্রীর হালকা শ্বাসকষ্ট ছিল, কিন্তু গুরুতর কিছু না। সিজারের পর থেকেই অবস্থা খারাপ হতে থাকে। পরে রংপুর নেয়ার পথে মারা যায়।

সকালে কৃষ্ণার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় শোকের পরিবেশ। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল জেনেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ যথাসময়ে চিকিৎসক আনেনি বা দ্রুত রেফার্ডও করেনি।

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিকের মালিক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমি বিকেলে ক্লিনিকে যাই, সাক্ষাতে বিষয়টি বিস্তারিত বলব।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন ধর বলেন, আমি নিজে ক্লিনিকটিতে গিয়ে তদন্ত করব।

সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি এখনো শুনিনি। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলব।

প্রসঙ্গত, এর আগেও একই ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর অন্তত তিন নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই শিশুগুলোর শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে পরে রংপুর বা ঠাকুরগাঁওয়ে পাঠানো হয়।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

দেবীগঞ্জে স্কয়ার ক্লিনিকের গাফিলতিতে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু

আপডেট: ০৮:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সিজারিয়ান অপারেশনের ১২ ঘণ্টার মাথায় কৃষ্ণা রানী (২২) নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের অবহেলা, সেবা ঘাটতি এবং চিকিৎসক না থাকার কারণে এই মৃত্যু ঘটেছে।

প্রয়াত কৃষ্ণা রানী দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের প্রেমবাজার এলাকার ধর্ম নারায়ণের স্ত্রী। চার বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে দেবীগঞ্জ পৌর শহরের করতোয়া সেতু টোলপাড় সংলগ্ন স্কয়ার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কৃষ্ণাকে সিজার অপারেশনের জন্য ভর্তি করা হয়। বিকেল ৩টার পর অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলে ডা. শিখা মনি অপারেশন সম্পন্ন করেন। কৃষ্ণা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

কিন্তু অপারেশনের পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরিবার জানায়, বেডে নেওয়ার পর থেকেই কৃষ্ণা বুক ধড়ফড় ও পায়ে ব্যথার অভিযোগ করছিলেন। রাত ২টা পর্যন্ত ক্লিনিকে রাখা হয় তাকে। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুরে নেওয়ার পথে নীলফামারী পৌঁছালে কৃষ্ণা মারা যান।

প্রয়াত কৃষ্ণার শাশুড়ি কনিকা রায় বলেন, বউমা বুক ধড়ফড় করছে, পেট ফুলে উঠেছে—বারবার ডাক্তার ডাকলেও কেউ আসেননি। শুধু নার্স এসে দেখে যাচ্ছিল।

স্বামী ধর্ম নারায়ণ জানান, বিয়ের আগেই স্ত্রীর হালকা শ্বাসকষ্ট ছিল, কিন্তু গুরুতর কিছু না। সিজারের পর থেকেই অবস্থা খারাপ হতে থাকে। পরে রংপুর নেয়ার পথে মারা যায়।

সকালে কৃষ্ণার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় শোকের পরিবেশ। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল জেনেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ যথাসময়ে চিকিৎসক আনেনি বা দ্রুত রেফার্ডও করেনি।

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিকের মালিক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমি বিকেলে ক্লিনিকে যাই, সাক্ষাতে বিষয়টি বিস্তারিত বলব।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন ধর বলেন, আমি নিজে ক্লিনিকটিতে গিয়ে তদন্ত করব।

সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি এখনো শুনিনি। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলব।

প্রসঙ্গত, এর আগেও একই ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর অন্তত তিন নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই শিশুগুলোর শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে পরে রংপুর বা ঠাকুরগাঁওয়ে পাঠানো হয়।

শেয়ার করুন