০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

ঢাকায় বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ: মাঠে নামছে ১৭ হাজার পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট: ০১:০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • / 48

আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচির আগেই রাজধানী ঢাকায় একাধিক স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ নভেম্বর) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানীজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সোমবার ভোরে বাড্ডা ও শাহজাদপুর এলাকায় যাত্রীবাহী দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে শাহজাদপুরে ভিক্টর পরিবহনের এবং সকাল সোয়া ৬টার দিকে বাড্ডায় আকাশ পরিবহনের বাসে আগুন লাগানো হয়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যার পর ধানমন্ডির মিরপুর রোডে ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এ ছাড়া মিরপুর, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও, বাংলাদেশ বেতার ভবন ও এনসিপির প্রধান কার্যালয়ের সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা এসে ককটেল ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলেই গ্রেপ্তার করা হবে।”

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় তল্লাশি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। গণপরিবহন, হোটেল এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হোস্টেলে অভিযান চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৩৪ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতারাও রয়েছেন।

ডিএমপি সোমবার এক গণবিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকার আশপাশে সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। নাগরিকদের সহযোগিতা পেলে এসব চোরাগোপ্তা হামলা রোধ আরও সহজ হবে।”

ডিএমপি জানিয়েছে, ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে অন্তত ১৭ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্বে থাকবেন।

একই দিনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। এ মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন (রাজসাক্ষী হিসেবে)।

সরকার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ককটেল হামলার ঘটনায় একজন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত। রাজধানীর সব গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কতার মধ্যেই রাজধানীজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ঢাকায় বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ: মাঠে নামছে ১৭ হাজার পুলিশ

আপডেট: ০১:০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচির আগেই রাজধানী ঢাকায় একাধিক স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ নভেম্বর) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানীজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সোমবার ভোরে বাড্ডা ও শাহজাদপুর এলাকায় যাত্রীবাহী দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে শাহজাদপুরে ভিক্টর পরিবহনের এবং সকাল সোয়া ৬টার দিকে বাড্ডায় আকাশ পরিবহনের বাসে আগুন লাগানো হয়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যার পর ধানমন্ডির মিরপুর রোডে ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এ ছাড়া মিরপুর, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও, বাংলাদেশ বেতার ভবন ও এনসিপির প্রধান কার্যালয়ের সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা এসে ককটেল ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলেই গ্রেপ্তার করা হবে।”

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় তল্লাশি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। গণপরিবহন, হোটেল এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হোস্টেলে অভিযান চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৩৪ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতারাও রয়েছেন।

ডিএমপি সোমবার এক গণবিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকার আশপাশে সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। নাগরিকদের সহযোগিতা পেলে এসব চোরাগোপ্তা হামলা রোধ আরও সহজ হবে।”

ডিএমপি জানিয়েছে, ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে অন্তত ১৭ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্বে থাকবেন।

একই দিনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। এ মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন (রাজসাক্ষী হিসেবে)।

সরকার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ককটেল হামলার ঘটনায় একজন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত। রাজধানীর সব গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কতার মধ্যেই রাজধানীজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শেয়ার করুন