০৫:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে প্রধান উপদেষ্টার নৈশভোজ

ইউএনএ নিউজ
  • আপডেট: ১১:২৭:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / 53

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সম্মানে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ২২ নভেম্বর শনিবার নৈশভোজের আয়োজন করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রীয় সফরের প্রথম দিনই আয়োজিত এই নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।

নৈশভোজে প্রধান উপদেষ্টা অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। নৈশভোজ মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

নৈশভোজে বক্তব্য প্রদানকালে অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের গভীর এবং ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে সংহতি, সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। অদ্ভুত মিলের কারণে, তিনি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমার প্রথম সাক্ষাৎকারী অতিথি ছিলেন, এবং সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম। তিনি অত্যন্ত চমৎকার মানুষ।’

প্রধান উপদেষ্টা তোবগেকে ‘একজন নিবেদিত নেতা’ এবং ‘বিশ্বদৃষ্টিকোণসম্পন্ন’ হিসেবে প্রশংসা করে বলেন, ‘সমগ্র ভুটান বাংলাদেশে চমৎকার বন্ধু।’ তিনি স্মরণ করেন, বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া ভুটানের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ছিল এবং এটি আজও একটি ‘চিরন্তন সংহতির নিদর্শন’, যা পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে।

ভুটানের উন্নয়ন দর্শন ও পরিবেশবান্ধব নীতিকে প্রশংসা করে ইউনূস বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নকে মানবকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত রাখার ক্ষেত্রে ভুটান বিশ্বের জন্য উদাহরণ। তিনি জানান, বাংলাদেশও শূন্য নিট কার্বন নির্গমন, দারিদ্র্য নির্মূল, সম্পদের ন্যায্য বণ্টন ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ভুটানের ভূমিকাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ–ভুটান–নেপাল একসঙ্গে জলবায়ু ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করবে।

শেরিং তোবগে তার বক্তব্যে বাংলাদেশের আতিথেয়তার প্রশংসা করে বলেন, প্রতিবার ঢাকা সফরেই দুই দেশের বন্ধুত্বের উষ্ণতা নতুনভাবে উপলব্ধি হয়। তিনি অধ্যাপক ইউনূসের নোবেলজয়ী উন্নয়ন দর্শনের প্রশংসা করেন এবং “তিন শূন্য” শূন্য কার্বন, শূন্য দারিদ্র্য ও শূন্য বেকারত্ব ধারণাকে মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তোবগে বলেন, ভুটান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বিশ্বাস, ইতিহাস ও সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। মানবসম্পদ, বাণিজ্য, পরিবহন যোগাযোগসহ নানা ক্ষেত্রে সম্পর্ক ইতোমধ্যে গভীর হয়েছে। সদ্য সই হওয়া সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যতে এই অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে প্রধান উপদেষ্টার নৈশভোজ

আপডেট: ১১:২৭:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সম্মানে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ২২ নভেম্বর শনিবার নৈশভোজের আয়োজন করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রীয় সফরের প্রথম দিনই আয়োজিত এই নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।

নৈশভোজে প্রধান উপদেষ্টা অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। নৈশভোজ মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

নৈশভোজে বক্তব্য প্রদানকালে অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের গভীর এবং ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে সংহতি, সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। অদ্ভুত মিলের কারণে, তিনি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমার প্রথম সাক্ষাৎকারী অতিথি ছিলেন, এবং সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম। তিনি অত্যন্ত চমৎকার মানুষ।’

প্রধান উপদেষ্টা তোবগেকে ‘একজন নিবেদিত নেতা’ এবং ‘বিশ্বদৃষ্টিকোণসম্পন্ন’ হিসেবে প্রশংসা করে বলেন, ‘সমগ্র ভুটান বাংলাদেশে চমৎকার বন্ধু।’ তিনি স্মরণ করেন, বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া ভুটানের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ছিল এবং এটি আজও একটি ‘চিরন্তন সংহতির নিদর্শন’, যা পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে।

ভুটানের উন্নয়ন দর্শন ও পরিবেশবান্ধব নীতিকে প্রশংসা করে ইউনূস বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নকে মানবকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত রাখার ক্ষেত্রে ভুটান বিশ্বের জন্য উদাহরণ। তিনি জানান, বাংলাদেশও শূন্য নিট কার্বন নির্গমন, দারিদ্র্য নির্মূল, সম্পদের ন্যায্য বণ্টন ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ভুটানের ভূমিকাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ–ভুটান–নেপাল একসঙ্গে জলবায়ু ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করবে।

শেরিং তোবগে তার বক্তব্যে বাংলাদেশের আতিথেয়তার প্রশংসা করে বলেন, প্রতিবার ঢাকা সফরেই দুই দেশের বন্ধুত্বের উষ্ণতা নতুনভাবে উপলব্ধি হয়। তিনি অধ্যাপক ইউনূসের নোবেলজয়ী উন্নয়ন দর্শনের প্রশংসা করেন এবং “তিন শূন্য” শূন্য কার্বন, শূন্য দারিদ্র্য ও শূন্য বেকারত্ব ধারণাকে মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তোবগে বলেন, ভুটান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বিশ্বাস, ইতিহাস ও সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। মানবসম্পদ, বাণিজ্য, পরিবহন যোগাযোগসহ নানা ক্ষেত্রে সম্পর্ক ইতোমধ্যে গভীর হয়েছে। সদ্য সই হওয়া সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যতে এই অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শেয়ার করুন