০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খামেনি কি ইরান ছেড়ে পালাচ্ছেন, যা জানা গেল

ইউএনএ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৪৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 22

তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের জেরে টানা দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আন্দোলন চলছে ইরানে। সরকার পতনের ডাক দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুও চাইছেন অনেকে। এরই মধ্যে সহিংস রূপ ধারণ করা এ আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন জানানোর পাশাপাশি ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামিস্ট সরকারকে উৎখাতের জন্য হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলও হামলার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। বিক্ষোভ দমনে হিমশিম খাচ্ছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইআরজিসি।

এই যখন পরিস্থিতি, তখনই দ্য টাইমস নামে আন্তর্জাতিক এক গণমাধ্যমে খবর, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ৮৬ বছর বয়সি খামেনি বিক্ষোভ তীব্র হলে এবং নিরাপত্তা বাহিনী বা সেনাবাহিনী সরকারী নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে, পরিবারের প্রায় ২০ জন ঘনিষ্ঠ সদস্যকে নিয়ে দেশ ছাড়তে পারেন। এমনকি তার সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কথাও উল্লেখ করা হয়। এছাড়া, দাবি করা হয় বিদেশে খামেনির রয়েছে অঢেল সম্পদ।

তবে, এ বিষয়ে ভারতের ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। খবর এনডিটিভির।

দূতাবাস জানায়, ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধ চলাকালেও খামেনি দেশ ছাড়েননি। ফলে, বর্তমান বিক্ষোভের কারণে তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন—এমন দাবি পুরোপুরি অসত্য। আলোচ্য প্রতিবেদনকে ‘শত্রু রাষ্ট্রগুলোর ছড়ানো অপপ্রচার’ উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের ইরানি দূতাবাস।

এদিকে কোম শহরের ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা জামির জাফরি এ ব্যাপারে বলেন, খামেনি সম্প্রতি ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন—যা প্রমাণ করে তিনি সক্রিয়ভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের প্রতিবেদনে নামহীন সূত্রের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু কোনো প্রমাণ নেই। যাচাই না করে এমন সংবাদ প্রকাশ থেকে গণমাধ্যমকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

খামেনি কি ইরান ছেড়ে পালাচ্ছেন, যা জানা গেল

আপডেট: ০৫:৪৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের জেরে টানা দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আন্দোলন চলছে ইরানে। সরকার পতনের ডাক দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুও চাইছেন অনেকে। এরই মধ্যে সহিংস রূপ ধারণ করা এ আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন জানানোর পাশাপাশি ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামিস্ট সরকারকে উৎখাতের জন্য হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলও হামলার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। বিক্ষোভ দমনে হিমশিম খাচ্ছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইআরজিসি।

এই যখন পরিস্থিতি, তখনই দ্য টাইমস নামে আন্তর্জাতিক এক গণমাধ্যমে খবর, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ৮৬ বছর বয়সি খামেনি বিক্ষোভ তীব্র হলে এবং নিরাপত্তা বাহিনী বা সেনাবাহিনী সরকারী নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে, পরিবারের প্রায় ২০ জন ঘনিষ্ঠ সদস্যকে নিয়ে দেশ ছাড়তে পারেন। এমনকি তার সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কথাও উল্লেখ করা হয়। এছাড়া, দাবি করা হয় বিদেশে খামেনির রয়েছে অঢেল সম্পদ।

তবে, এ বিষয়ে ভারতের ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। খবর এনডিটিভির।

দূতাবাস জানায়, ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধ চলাকালেও খামেনি দেশ ছাড়েননি। ফলে, বর্তমান বিক্ষোভের কারণে তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন—এমন দাবি পুরোপুরি অসত্য। আলোচ্য প্রতিবেদনকে ‘শত্রু রাষ্ট্রগুলোর ছড়ানো অপপ্রচার’ উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের ইরানি দূতাবাস।

এদিকে কোম শহরের ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা জামির জাফরি এ ব্যাপারে বলেন, খামেনি সম্প্রতি ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন—যা প্রমাণ করে তিনি সক্রিয়ভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের প্রতিবেদনে নামহীন সূত্রের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু কোনো প্রমাণ নেই। যাচাই না করে এমন সংবাদ প্রকাশ থেকে গণমাধ্যমকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

শেয়ার করুন