১০:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

ইউএনএ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৫২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 30

মুসলিম আইনানুযায়ী পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে জায়েজ থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা ছিল গুরুত্বর অপরাধ ও নৈতিকতার লঙ্ঘন। তবে এবার হাইকোর্ট দিয়েছেন, বাংলাদেশের কোনো মুসলিম পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক নয়।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত ২৪ পৃষ্ঠার একটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত।

মুসলিম পারিবারিক আইন সংক্রান্ত একটি রিটের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেছেন, ‘দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি স্ত্রী নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আরবিট্রেশন কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত। ফলে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—এমন কোনো বিধান প্রচলিত আইনে নেই।’

রায়ে বলা হয়, ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষকে অবশ্যই আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু এই আইনে কোথাও প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়াকে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে যে ধারণা প্রচলিত ছিল—স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ, তা আইনের সরাসরি ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও রায়ে মন্তব্য করা হয়।

আদালত বলেন, ‘দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা যেহেতু আরবিট্রেশন কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত, সেহেতু স্ত্রী অনুমতি না দিলেই বিয়ে অবৈধ হয়ে যাবে—এমন ব্যাখ্যা আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে তৈরি হয়েছে। কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, আর্থিক সক্ষমতা ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে—এটাই আইনের মূল উদ্দেশ্য।’

আইনগত প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আদালত উল্লেখ করেন, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৪ ধারায় দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর পুরুষের ক্ষেত্রে সেই কঠোরতা শিথিল করা হয়। নতুন আইনে দ্বিতীয় বিয়েকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে তা আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল করা হয়। অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন রিটকারীরা। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তাঁরা রিট করেছিলেন।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

আপডেট: ০৭:৫২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

মুসলিম আইনানুযায়ী পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে জায়েজ থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা ছিল গুরুত্বর অপরাধ ও নৈতিকতার লঙ্ঘন। তবে এবার হাইকোর্ট দিয়েছেন, বাংলাদেশের কোনো মুসলিম পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক নয়।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত ২৪ পৃষ্ঠার একটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত।

মুসলিম পারিবারিক আইন সংক্রান্ত একটি রিটের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেছেন, ‘দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি স্ত্রী নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আরবিট্রেশন কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত। ফলে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—এমন কোনো বিধান প্রচলিত আইনে নেই।’

রায়ে বলা হয়, ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষকে অবশ্যই আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু এই আইনে কোথাও প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়াকে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে যে ধারণা প্রচলিত ছিল—স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ, তা আইনের সরাসরি ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও রায়ে মন্তব্য করা হয়।

আদালত বলেন, ‘দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা যেহেতু আরবিট্রেশন কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত, সেহেতু স্ত্রী অনুমতি না দিলেই বিয়ে অবৈধ হয়ে যাবে—এমন ব্যাখ্যা আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে তৈরি হয়েছে। কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, আর্থিক সক্ষমতা ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে—এটাই আইনের মূল উদ্দেশ্য।’

আইনগত প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আদালত উল্লেখ করেন, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৪ ধারায় দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর পুরুষের ক্ষেত্রে সেই কঠোরতা শিথিল করা হয়। নতুন আইনে দ্বিতীয় বিয়েকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে তা আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল করা হয়। অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন রিটকারীরা। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তাঁরা রিট করেছিলেন।

শেয়ার করুন