১১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আত্মসমর্পণ করলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম আজাদ

ইউএনএ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৩৬:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 6

ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ। আজ বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

আবুল কালাম আজাদকে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই সময় থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনার সরকার। পরে পুনর্গঠন করা হয় ট্রাইব্যুনাল। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ৮ জুলাই সাজা স্থগিত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন আবুল কালাম।

একই বছরে ২২ অক্টোবর আবুল কালাম আজাদের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে সরকার।

তাকে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার আগে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি। তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, ৯ জনকে অপহরণ, ১০ জনকে আটক রাখা, পাঁচ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

৮টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে ৭টিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তিনটিতে তার মৃত্যুদণ্ড, ৪টিতে কারাদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকলেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কারণে সেসব অপরাধের বিষয়ে দণ্ডাদেশ দেয়নি ট্রাইব্যুনাল। অপর একটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে না পারায় সেটি খারিজ করা হয়।

আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘোষিত এ রায়ের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের প্রথম কোনো মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। তবে পলাতক থাকায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি।

তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই পালিয়ে ভারত হয়ে তিনি পাকিস্তানে চলে যান বলে জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আত্মসমর্পণ করলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম আজাদ

আপডেট: ১২:৩৬:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ। আজ বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

আবুল কালাম আজাদকে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই সময় থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনার সরকার। পরে পুনর্গঠন করা হয় ট্রাইব্যুনাল। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ৮ জুলাই সাজা স্থগিত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন আবুল কালাম।

একই বছরে ২২ অক্টোবর আবুল কালাম আজাদের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে সরকার।

তাকে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার আগে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি। তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, ৯ জনকে অপহরণ, ১০ জনকে আটক রাখা, পাঁচ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

৮টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে ৭টিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তিনটিতে তার মৃত্যুদণ্ড, ৪টিতে কারাদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকলেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কারণে সেসব অপরাধের বিষয়ে দণ্ডাদেশ দেয়নি ট্রাইব্যুনাল। অপর একটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে না পারায় সেটি খারিজ করা হয়।

আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘোষিত এ রায়ের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের প্রথম কোনো মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। তবে পলাতক থাকায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি।

তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই পালিয়ে ভারত হয়ে তিনি পাকিস্তানে চলে যান বলে জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শেয়ার করুন