০৮:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পঞ্চগড়ে রবি ব্র্যান্ড প্রোমোটরদের বিরুদ্ধে সিম প্রতারণার অভিযোগ

বদরুদ্দোজা প্রধান, পঞ্চগড়
  • আপডেট: ০৮:২২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 19

রবি ব্র্যান্ড প্রোমোটরদের বিরুদ্ধে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে সিম না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়ে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পঞ্চগড় সদর থানায় মুনিরা নামে এক নারী থানার ওসির বরাবর অভিযোগ করেন। অভিযোগে পঞ্চগড় বাজারের বকুলতলা এলাকার রবি সিম ডিস্ট্রিবিউটর বর্ডার টাউন হাউস-এর টেরিটরি ম্যানেজার জাহিদ হাসান এবং ব্র্যান্ড প্রোমোটর সাজু ও হাবিবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জাহিদ হাসানের নির্দেশে সাজু ও হাবিব সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকায় মুনিরাকে ফ্রি সিম দেওয়ার প্রলোভন দেখান। ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার পর ‘ম্যাচ না হওয়া’র অজুহাতে সিম দেওয়া হয়নি। পরে ওই ফিঙ্গারপ্রিন্টের ভিত্তিতে মুনিরার নামে সক্রিয় সিম থেকে বিকাশ একাউন্ট খোলা হয়।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম সেই বিকাশ একাউন্টে বালু সরবরাহের নামে ১৯ হাজার টাকা পরিশোধ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা ফেরত না পেয়ে ফতুল্লা থানায় ওই নাম্বারসহ আরও কয়েকটি রবি-এয়ারটেল নাম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলে বিষয়টি পঞ্চগড় সদর থানাকে জানানো হয়।

ঘটনার বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করলে প্রথমে মুনিরা সিম ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে জানান, রবি কোম্পানির ব্র্যান্ড প্রোমোটর সাজু ও হাবিব ফ্রি সিম দেওয়ার কথা বলে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়েছিলেন এবং সিম হাতে দেননি। তার ভাষায়, আমার সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে। আমি কোনো টাকা লেনদেন করিনি।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাজু ও হাবিব একই কায়দায় কামারপাড়া এলাকার আরও কয়েকজন নারীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি দাবি করেন, ফুলতলা এলাকায় এমন একটি প্রতারক চক্র গড়ে উঠেছে। অনলাইনে কম দামে বালু-পাথর সরবরাহের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, সম্প্রতি আরিফ এন্টারপ্রাইজ নামে ভুয়া চালানে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ দশ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে টেরিটরি ম্যানেজার জাহিদ হাসান জানান, ব্র্যান্ড প্রোমোটর হাবিব চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। সাজু চাকরিতে কর্মরত রয়েছে। তবে সিম অ্যাক্টিভেশনের তথ্য দিতে তিনি অসম্মতি জানান। তার ভাষায়, বসের অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য দেয়া যাবে না।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, সিম সংক্রান্ত জটিলতায় মুনিরা নামে এক নারী অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

পঞ্চগড়ে রবি ব্র্যান্ড প্রোমোটরদের বিরুদ্ধে সিম প্রতারণার অভিযোগ

আপডেট: ০৮:২২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

রবি ব্র্যান্ড প্রোমোটরদের বিরুদ্ধে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে সিম না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়ে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পঞ্চগড় সদর থানায় মুনিরা নামে এক নারী থানার ওসির বরাবর অভিযোগ করেন। অভিযোগে পঞ্চগড় বাজারের বকুলতলা এলাকার রবি সিম ডিস্ট্রিবিউটর বর্ডার টাউন হাউস-এর টেরিটরি ম্যানেজার জাহিদ হাসান এবং ব্র্যান্ড প্রোমোটর সাজু ও হাবিবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জাহিদ হাসানের নির্দেশে সাজু ও হাবিব সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকায় মুনিরাকে ফ্রি সিম দেওয়ার প্রলোভন দেখান। ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার পর ‘ম্যাচ না হওয়া’র অজুহাতে সিম দেওয়া হয়নি। পরে ওই ফিঙ্গারপ্রিন্টের ভিত্তিতে মুনিরার নামে সক্রিয় সিম থেকে বিকাশ একাউন্ট খোলা হয়।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম সেই বিকাশ একাউন্টে বালু সরবরাহের নামে ১৯ হাজার টাকা পরিশোধ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা ফেরত না পেয়ে ফতুল্লা থানায় ওই নাম্বারসহ আরও কয়েকটি রবি-এয়ারটেল নাম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলে বিষয়টি পঞ্চগড় সদর থানাকে জানানো হয়।

ঘটনার বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করলে প্রথমে মুনিরা সিম ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে জানান, রবি কোম্পানির ব্র্যান্ড প্রোমোটর সাজু ও হাবিব ফ্রি সিম দেওয়ার কথা বলে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়েছিলেন এবং সিম হাতে দেননি। তার ভাষায়, আমার সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে। আমি কোনো টাকা লেনদেন করিনি।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাজু ও হাবিব একই কায়দায় কামারপাড়া এলাকার আরও কয়েকজন নারীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি দাবি করেন, ফুলতলা এলাকায় এমন একটি প্রতারক চক্র গড়ে উঠেছে। অনলাইনে কম দামে বালু-পাথর সরবরাহের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, সম্প্রতি আরিফ এন্টারপ্রাইজ নামে ভুয়া চালানে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ দশ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে টেরিটরি ম্যানেজার জাহিদ হাসান জানান, ব্র্যান্ড প্রোমোটর হাবিব চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। সাজু চাকরিতে কর্মরত রয়েছে। তবে সিম অ্যাক্টিভেশনের তথ্য দিতে তিনি অসম্মতি জানান। তার ভাষায়, বসের অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য দেয়া যাবে না।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, সিম সংক্রান্ত জটিলতায় মুনিরা নামে এক নারী অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

শেয়ার করুন