০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে উত্তরাঞ্চলের জীবনযাত্রা বদলে যাবে: ডা. শফিকুর রহমান

বদরুদ্দোজা প্রধান, পঞ্চগড় প্রতিনিধি
  • আপডেট: ০৮:০৮:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 13

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় গেলে শুধু পঞ্চগড় নয়, দেশের ৬৪ জেলাতেই মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ করা হবে। যারা চুরি করে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের টাকা ফিরিয়ে আনা হবে। নদীগুলোকে হত্যা করা হয়েছে, মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমাদের জোট ক্ষমতায় গেলে নদীর পাশাপাশি মানুষের জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা বদলে যাবে। তিনি বলেন, এখন থেকে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া নয়, বলতে হবে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ।

শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে ১০–দলীয় জোট আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। এর আগে তিনি হেলিকপ্টারযোগে পঞ্চগড় স্টেডিয়ামে পৌঁছান। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা ১০–দলীয় জোটকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠান, যাতে সরকার গঠন করা যায়। আমরা কথা দিচ্ছি, শুধু নদীর জীবনই ফিরবে না, মানুষের জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে, ইনশাল্লাহ।
বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা দুই হাজার টাকার কার্ডের রাজনীতি করতে চাই না। আমার কাছে কোনো কার্ড নেই, আমি আপনাদের ভালোবাসার কার্ড চাই।

উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলতে চাই, এই অঞ্চলের চেহারা বদলাতে পাঁচ বছরই যথেষ্ট। এই এলাকার মাটি উর্বর, পিছিয়ে থাকার কোনো কারণ নেই। পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করে এই অঞ্চলকে পিছনে রাখা হয়েছে।

দেশের চারটি প্রধান নদীকে খুন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদীগুলোর কি মা–বাবা ছিল না? তাহলে তারা মারা গেল কেন? যারা পাঁচ বছরে একবার আসে, বাকি সময় খুঁজে পাওয়া যায় না, তারাই আজ বড় বড় কথা বলে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কাউকে আর চুরি করতে দেব না। যারা চুরি করে টাকা পাচার করেছে, তাদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনা হবে। ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে জাতি, ধর্ম ও দল–নির্বিশেষে।

তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সে দেশ চলে। কিন্তু দেশে আরেকটি অদৃশ্য ট্যাক্স আছে—চাঁদাবাজি। মুদির দোকান থেকে শুরু করে হকার, এমনকি ভিক্ষুকের কাছ থেকেও এই চাঁদা নেওয়া হয়। ক্ষমতায় গেলে এই চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে।

ভোটাধিকার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, গত ১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। জনগণ আর কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চায় না। এই দেশে ফ্যাসিবাদের ছায়াও আর দেখতে চায় না। নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ নতুন জামা পরে এলে, তার পরিণতিও আগের মতোই হবে।
নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত নারীদের সম্মানের জায়গায় রাখতে চায়। কর্মক্ষেত্র ও রাস্তাঘাটে নারীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মা–বোনদের ইজ্জত নিয়ে কেউ টানাটানি করলে তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

জনসভায় পঞ্চগড়–১ আসনে ১০–দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির সারজিস আলমের হাতে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক এবং পঞ্চগড়–২ আসনের প্রার্থী জামায়াতের শফিউল আলম সুফির হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এসব প্রতীকে ভোট দিয়ে প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। আরও বক্তব্য দেন জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা।জনসভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারযোগে দিনাজপুরের উদ্দেশে পঞ্চগড় ত্যাগ করেন। পরে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে ১০–দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে উত্তরাঞ্চলের জীবনযাত্রা বদলে যাবে: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট: ০৮:০৮:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় গেলে শুধু পঞ্চগড় নয়, দেশের ৬৪ জেলাতেই মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ করা হবে। যারা চুরি করে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের টাকা ফিরিয়ে আনা হবে। নদীগুলোকে হত্যা করা হয়েছে, মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমাদের জোট ক্ষমতায় গেলে নদীর পাশাপাশি মানুষের জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা বদলে যাবে। তিনি বলেন, এখন থেকে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া নয়, বলতে হবে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ।

শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে ১০–দলীয় জোট আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। এর আগে তিনি হেলিকপ্টারযোগে পঞ্চগড় স্টেডিয়ামে পৌঁছান। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা ১০–দলীয় জোটকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠান, যাতে সরকার গঠন করা যায়। আমরা কথা দিচ্ছি, শুধু নদীর জীবনই ফিরবে না, মানুষের জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে, ইনশাল্লাহ।
বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা দুই হাজার টাকার কার্ডের রাজনীতি করতে চাই না। আমার কাছে কোনো কার্ড নেই, আমি আপনাদের ভালোবাসার কার্ড চাই।

উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলতে চাই, এই অঞ্চলের চেহারা বদলাতে পাঁচ বছরই যথেষ্ট। এই এলাকার মাটি উর্বর, পিছিয়ে থাকার কোনো কারণ নেই। পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করে এই অঞ্চলকে পিছনে রাখা হয়েছে।

দেশের চারটি প্রধান নদীকে খুন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদীগুলোর কি মা–বাবা ছিল না? তাহলে তারা মারা গেল কেন? যারা পাঁচ বছরে একবার আসে, বাকি সময় খুঁজে পাওয়া যায় না, তারাই আজ বড় বড় কথা বলে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কাউকে আর চুরি করতে দেব না। যারা চুরি করে টাকা পাচার করেছে, তাদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনা হবে। ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে জাতি, ধর্ম ও দল–নির্বিশেষে।

তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সে দেশ চলে। কিন্তু দেশে আরেকটি অদৃশ্য ট্যাক্স আছে—চাঁদাবাজি। মুদির দোকান থেকে শুরু করে হকার, এমনকি ভিক্ষুকের কাছ থেকেও এই চাঁদা নেওয়া হয়। ক্ষমতায় গেলে এই চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে।

ভোটাধিকার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, গত ১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। জনগণ আর কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চায় না। এই দেশে ফ্যাসিবাদের ছায়াও আর দেখতে চায় না। নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ নতুন জামা পরে এলে, তার পরিণতিও আগের মতোই হবে।
নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত নারীদের সম্মানের জায়গায় রাখতে চায়। কর্মক্ষেত্র ও রাস্তাঘাটে নারীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মা–বোনদের ইজ্জত নিয়ে কেউ টানাটানি করলে তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

জনসভায় পঞ্চগড়–১ আসনে ১০–দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির সারজিস আলমের হাতে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক এবং পঞ্চগড়–২ আসনের প্রার্থী জামায়াতের শফিউল আলম সুফির হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এসব প্রতীকে ভোট দিয়ে প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। আরও বক্তব্য দেন জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা।জনসভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারযোগে দিনাজপুরের উদ্দেশে পঞ্চগড় ত্যাগ করেন। পরে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে ১০–দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

শেয়ার করুন