০৮:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকারি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে গণভোটের প্রচার, সমালোচনার মুখে প্রত্যাহার

ইউএনএ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:২২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 12

নাটোর পৌরবাসীকে দ্রুত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত সরকার উপহার হিসেবে দিয়েছিল প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার লাইফসাপোর্ট (আইসিইউ) অ্যাম্বুলেন্স। মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচানোর সে বাহনটিকে ‘ভোটের গাড়ি’ বানিয়ে নামানো হয় প্রচারণায়। সমালোচনার মুখে অ্যাম্বুলেন্সটি আবার গ্যারেজে ফিরিয়ে আনা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালের শুরুর দিকে ভারত সরকার বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে নাটোর পৌরসভা, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল ও সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে মোট তিনটি অত্যাধুনিক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়। ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি নাটোর পৌরসভা প্রাঙ্গণে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাট্টি নাটোর পৌর মেয়রের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করেন।

সর্বশেষ গত সোমবার অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সটির গায়ে নির্বাচনী স্টিকার সাঁটানো অবস্থায় ভোটের প্রচারের কাজে ব্যবহারের দৃশ্য দেখা যায়। প্রচারের সুবিধার জন্য গাড়িটির ওপরে স্থাপন করা হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। পরে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে গাড়িটি গ্যারেজে ফিরে আনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নাটোর পৌরসভার কর আদায়কারী জুলফিকুল হায়দার বলেন, অ্যাম্বুলেন্স থেকে রাজস্ব আদায় তো হয়ই না, উল্টো অ্যাম্বুলেন্সটি সচল রাখতে মাঝেমধ্যে পৌরসভার অর্থ ব্যয় করতে হয়। জ্বালানি খরচ বেশি হওয়ায় সেবাগ্রহীতারাও ভাড়া নিতে আগ্রহী হন না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাম্বুলেন্সটি পৌরসভার গ্যারেজে পড়ে ছিল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের নির্বাচনসংক্রান্ত একটি সভায় পৌরসভাসহ বিভিন্ন দপ্তরকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। তখন আমরা অ্যাম্বুলেন্সটি সচল রাখতে ভোটের গাড়ি হিসেবে ব্যবহারের চিন্তা করি। সেই মোতাবেক অ্যাম্বুলেন্সটি সাজিয়ে গতকাল দুপুরে শহরের রাস্তায় নামানো হয়। কিন্তু সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত বদলে অ্যাম্বুলেন্সটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।’

পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, অ্যাম্বুলেন্সকে ভোটের গাড়ি বানানোর ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। কার সিদ্ধান্তে ভোটের গাড়ি করা হলো—তিনি উত্তর দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, মাত্র দুই ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সটি ভোটের গাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সমালোচনা শুরু হলে তাৎক্ষণিক গাড়িটি গ্যারেজে ফিরিয়ে আনা হয়।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সরকারি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে গণভোটের প্রচার, সমালোচনার মুখে প্রত্যাহার

আপডেট: ১১:২২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

নাটোর পৌরবাসীকে দ্রুত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত সরকার উপহার হিসেবে দিয়েছিল প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার লাইফসাপোর্ট (আইসিইউ) অ্যাম্বুলেন্স। মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচানোর সে বাহনটিকে ‘ভোটের গাড়ি’ বানিয়ে নামানো হয় প্রচারণায়। সমালোচনার মুখে অ্যাম্বুলেন্সটি আবার গ্যারেজে ফিরিয়ে আনা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালের শুরুর দিকে ভারত সরকার বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে নাটোর পৌরসভা, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল ও সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে মোট তিনটি অত্যাধুনিক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়। ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি নাটোর পৌরসভা প্রাঙ্গণে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাট্টি নাটোর পৌর মেয়রের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করেন।

সর্বশেষ গত সোমবার অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সটির গায়ে নির্বাচনী স্টিকার সাঁটানো অবস্থায় ভোটের প্রচারের কাজে ব্যবহারের দৃশ্য দেখা যায়। প্রচারের সুবিধার জন্য গাড়িটির ওপরে স্থাপন করা হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। পরে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে গাড়িটি গ্যারেজে ফিরে আনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নাটোর পৌরসভার কর আদায়কারী জুলফিকুল হায়দার বলেন, অ্যাম্বুলেন্স থেকে রাজস্ব আদায় তো হয়ই না, উল্টো অ্যাম্বুলেন্সটি সচল রাখতে মাঝেমধ্যে পৌরসভার অর্থ ব্যয় করতে হয়। জ্বালানি খরচ বেশি হওয়ায় সেবাগ্রহীতারাও ভাড়া নিতে আগ্রহী হন না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাম্বুলেন্সটি পৌরসভার গ্যারেজে পড়ে ছিল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের নির্বাচনসংক্রান্ত একটি সভায় পৌরসভাসহ বিভিন্ন দপ্তরকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। তখন আমরা অ্যাম্বুলেন্সটি সচল রাখতে ভোটের গাড়ি হিসেবে ব্যবহারের চিন্তা করি। সেই মোতাবেক অ্যাম্বুলেন্সটি সাজিয়ে গতকাল দুপুরে শহরের রাস্তায় নামানো হয়। কিন্তু সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত বদলে অ্যাম্বুলেন্সটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।’

পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, অ্যাম্বুলেন্সকে ভোটের গাড়ি বানানোর ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। কার সিদ্ধান্তে ভোটের গাড়ি করা হলো—তিনি উত্তর দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, মাত্র দুই ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সটি ভোটের গাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সমালোচনা শুরু হলে তাৎক্ষণিক গাড়িটি গ্যারেজে ফিরিয়ে আনা হয়।

শেয়ার করুন