১০:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাদ্দাফি পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত

ইউএনএ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 2

লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। তার পরিবারঘনিষ্ঠ সূত্র, তার আইনজীবী এবং লিবিয়ার কয়েকটি গণমাধ্যমে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানানো হয়। তবে তার মৃত্যুর পরিস্থিতি ও কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি একসময় তেলসমৃদ্ধ উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন হিসেবে বিবেচিত হতেন। কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় দেশ শাসন করা তার বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির উত্তরসূরি হিসেবে তাকে দেখা হতো।

সাইফ আল-ইসলাম কূটনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগের আলোচনা পরিচালনা করেন এবং ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবিতে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।

লিবিয়াকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে অবস্থা থেকে বের করে আনতে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান। সংবিধান প্রণয়ন ও মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজেকে সংস্কারপন্থী হিসেবে তুলে ধরেন। যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে শিক্ষিত সাইফ আল-ইসলাম ইংরেজিতে সাবলীল ছিলেন এবং একসময় পশ্চিমা সরকারগুলোর কাছে ‘গ্রহণযোগ্য মুখ’ হিসেবে বিবেচিত হন।

তবে ২০১১ সালে গাদ্দাফি সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান শুরু হলে তিনি পরিবারের পক্ষে অবস্থান নেন এবং বিদ্রোহ দমনে কঠোর ভূমিকা পালন করেন। সে সময় বিদ্রোহীদের উদ্দেশে তিনি রক্তক্ষয়ী সংঘাতের হুঁশিয়ারি দেন।

ত্রিপোলি পতনের পর তিনি প্রতিবেশী নাইজারে পালানোর চেষ্টা করলে একটি মিলিশ_toggle বাহিনী তাকে আটক করে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি প্রায় ছয় বছর আটক ছিলেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সঙ্গে দেখা হলেও তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে তখন জানানো হয়, যদিও দীর্ঘ সময় একাকী বন্দিত্বে থাকার কথা উঠে আসে।

২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত তাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমার আইনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি নিরাপত্তার কারণে জিনতান এলাকায় আত্মগোপনে থাকেন। ২০২১ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হন। তার এই প্রার্থিতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয় এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ে। শেষ পর্যন্ত লিবিয়া আবার রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ফিরে যায়।

২০২১ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর রাজনীতিতে ফিরতে ধীরে ধীরে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছিলেন।

সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যুর খবর সম্পর্কে লিবিয়ার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

গাদ্দাফি পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত

আপডেট: ০৯:০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। তার পরিবারঘনিষ্ঠ সূত্র, তার আইনজীবী এবং লিবিয়ার কয়েকটি গণমাধ্যমে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানানো হয়। তবে তার মৃত্যুর পরিস্থিতি ও কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি একসময় তেলসমৃদ্ধ উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন হিসেবে বিবেচিত হতেন। কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় দেশ শাসন করা তার বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির উত্তরসূরি হিসেবে তাকে দেখা হতো।

সাইফ আল-ইসলাম কূটনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগের আলোচনা পরিচালনা করেন এবং ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবিতে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।

লিবিয়াকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে অবস্থা থেকে বের করে আনতে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান। সংবিধান প্রণয়ন ও মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজেকে সংস্কারপন্থী হিসেবে তুলে ধরেন। যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে শিক্ষিত সাইফ আল-ইসলাম ইংরেজিতে সাবলীল ছিলেন এবং একসময় পশ্চিমা সরকারগুলোর কাছে ‘গ্রহণযোগ্য মুখ’ হিসেবে বিবেচিত হন।

তবে ২০১১ সালে গাদ্দাফি সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান শুরু হলে তিনি পরিবারের পক্ষে অবস্থান নেন এবং বিদ্রোহ দমনে কঠোর ভূমিকা পালন করেন। সে সময় বিদ্রোহীদের উদ্দেশে তিনি রক্তক্ষয়ী সংঘাতের হুঁশিয়ারি দেন।

ত্রিপোলি পতনের পর তিনি প্রতিবেশী নাইজারে পালানোর চেষ্টা করলে একটি মিলিশ_toggle বাহিনী তাকে আটক করে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি প্রায় ছয় বছর আটক ছিলেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সঙ্গে দেখা হলেও তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে তখন জানানো হয়, যদিও দীর্ঘ সময় একাকী বন্দিত্বে থাকার কথা উঠে আসে।

২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত তাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমার আইনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি নিরাপত্তার কারণে জিনতান এলাকায় আত্মগোপনে থাকেন। ২০২১ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হন। তার এই প্রার্থিতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয় এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ে। শেষ পর্যন্ত লিবিয়া আবার রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ফিরে যায়।

২০২১ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর রাজনীতিতে ফিরতে ধীরে ধীরে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছিলেন।

সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যুর খবর সম্পর্কে লিবিয়ার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন