১২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করে আইনি জটিলতায় অভিনেতা

ইউএনএ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 6

ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা এবং বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে বড় ধরনের আইনি ও সামাজিক সংকটে পড়েছেন। প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আইনগত বিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার আগেই তিনি মডেল রিতিকা গিরিকে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অভিনেতা প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিয়ের ছবি পোস্ট করে বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনার মুখে মুহূর্তের মধ্যেই সেই পোস্ট মুছে ফেলেন। এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে টলিউড এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

হিরণের এই বিয়েকে সরাসরি ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছেন তার প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, তাদের মধ্যে এখনো কোনো আইনি বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স হয়নি।

তাকে বা তার পরিবারকে কোনো কিছু না জানিয়েই হিরণ এই দ্বিতীয় বিয়ের পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা আইন ও নৈতিকতা কোনো দিক থেকেই গ্রহণযোগ্য নয়। বারাণসীতে গিয়ে কেন এই ধরনের লুকোচুরি করা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অনিন্দিতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই অবৈধ বিয়ের বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

বিয়ের এই বিতর্কের পাশাপাশি হিরণের বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তার প্রথম স্ত্রী। অনিন্দিতা জানান, গত এক বছর ধরে হিরণ তার একমাত্র মেয়ের কোনো খোঁজখবর রাখছেন না। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানার পর তাদের কিশোরী কন্যা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থারও অবনতি হয়েছে।

বর্তমানে মেয়েটি নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে বলে জানা গেছে। অনিন্দিতার মতে, একজন বাবা যখন নিজের সন্তানের দায়িত্ব এড়িয়ে নতুন জীবন শুরু করেন, তখন সেই ক্ষত সন্তানের মনে আজীবন থেকে যায়।

এখন পর্যন্ত এই বির্তক ও অভিযোগের বিষয়ে অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতীয় আইন অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন এবং বৈধ বিচ্ছেদ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে এই অভিনেতা ও বিধায়কের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করে আইনি জটিলতায় অভিনেতা

আপডেট: ০৫:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা এবং বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে বড় ধরনের আইনি ও সামাজিক সংকটে পড়েছেন। প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আইনগত বিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার আগেই তিনি মডেল রিতিকা গিরিকে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অভিনেতা প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিয়ের ছবি পোস্ট করে বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনার মুখে মুহূর্তের মধ্যেই সেই পোস্ট মুছে ফেলেন। এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে টলিউড এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

হিরণের এই বিয়েকে সরাসরি ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছেন তার প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, তাদের মধ্যে এখনো কোনো আইনি বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স হয়নি।

তাকে বা তার পরিবারকে কোনো কিছু না জানিয়েই হিরণ এই দ্বিতীয় বিয়ের পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা আইন ও নৈতিকতা কোনো দিক থেকেই গ্রহণযোগ্য নয়। বারাণসীতে গিয়ে কেন এই ধরনের লুকোচুরি করা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অনিন্দিতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই অবৈধ বিয়ের বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

বিয়ের এই বিতর্কের পাশাপাশি হিরণের বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তার প্রথম স্ত্রী। অনিন্দিতা জানান, গত এক বছর ধরে হিরণ তার একমাত্র মেয়ের কোনো খোঁজখবর রাখছেন না। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানার পর তাদের কিশোরী কন্যা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থারও অবনতি হয়েছে।

বর্তমানে মেয়েটি নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে বলে জানা গেছে। অনিন্দিতার মতে, একজন বাবা যখন নিজের সন্তানের দায়িত্ব এড়িয়ে নতুন জীবন শুরু করেন, তখন সেই ক্ষত সন্তানের মনে আজীবন থেকে যায়।

এখন পর্যন্ত এই বির্তক ও অভিযোগের বিষয়ে অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতীয় আইন অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন এবং বৈধ বিচ্ছেদ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে এই অভিনেতা ও বিধায়কের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

শেয়ার করুন