শান্ত, সংযত ও বাস্তববাদী নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির

- আপডেট: ০৬:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 16
চিৎকারনির্ভর রাজনীতির বাইরে এসে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও সুসংবদ্ধ চিন্তার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড়-১ আসনের ধানের শীষের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির। শান্ত স্বভাব ও গভীর বিশ্লেষণী মানসিকতার এই নেতা রাজনীতিতে এক ভিন্ন ধারা তৈরি করছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০ সালে ঢাকার ধানমন্ডিতে জন্মগ্রহণ করেন ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। তার শিক্ষা জীবনের শুরু ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুলে, যেখানে তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন ঢাকা কলেজে। শৈশব থেকেই শৃঙ্খলা, সংযম ও চিন্তাশীলতার যে ভিত্তি তৈরি হয়, তার প্রতিফলন আজ তার রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনেও স্পষ্ট।
নওশাদ জমিরের রাজনৈতিক আচরণে আক্রমণাত্মক ভাষা কিংবা প্রতিপক্ষকে হেয় করার প্রবণতা নেই। কোনো সংকট বা সমস্যা সামনে এলে তিনি তাড়াহুড়ো না করে বিষয়টির গভীরে গিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন। তার বক্তব্যে আবেগের চেয়ে যুক্তি ও বাস্তবতার উপস্থিতিই বেশি লক্ষ করা যায়। ২৪-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন পরিণত ও সংযত নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা ছিল বলেই মনে করছেন অনেকে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি একজন শিক্ষিত, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও আধুনিক চিন্তাধারার নেতা হিসেবে পরিচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলএম, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ট্যাক্সেশনে এমএসসি এবং লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-এট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনীতিতে নওশাদ জমিরের পথচলা শুধু ব্যক্তিগত যোগ্যতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়. এটি একটি ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাও বহন করে। তার পিতা ব্যারিস্টার মোহাম্মদ জমিরউদ্দীন সরকার ছিলেন পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার। তিনি বিভিন্ন সময়ে আইন, পররাষ্ট্র, শিক্ষা, ভূমি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পঞ্চগড়ের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে তার অবদান আজও এলাকাবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
নির্বাচিত হলে পঞ্চগড়-১ আসনের সার্বিক উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন নওশাদ জমির। তার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, উপজেলা পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ, কৃষকবান্ধব ঋণব্যবস্থা, হস্ত ও কুটির শিল্পের প্রসার এবং যুবকদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
এ ছাড়া নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা, নারীদের স্বনির্ভর করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সহজ ঋণ, পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর উন্নয়ন এবং বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে তার ঘোষণায়।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পঞ্চগড়-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে নওশাদ জমির বলেছেন, জনগণের পাশে থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। পঞ্চগড়বাসীর অনেকেই মনে করছেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির এখন একটি গ্রহণযোগ্য ও ভরসাযোগ্য নেতৃত্বের প্রতীক।




















