০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬

অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ১০ বন্ধ হয়ে গেল, প্রযুক্তি দুনিয়ায় এক যুগের সমাপ্তি

ইউএনএ নিউজ:
  • আপডেট: ১২:০০:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / 38

নিউজ ডেস্ক: নিউজ ডেস্ক: প্রায় এক যুগের সফল যাত্রার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ১০।

মাইক্রোসফটের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবরের পর থেকে ‘উইন্ডোজ ১০’ এই সিস্টেম আর কোনো সিকিউরিটি আপডেট, বাগ ফিক্স বা টেকনিক্যাল সাপোর্ট পাবে না।

এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো প্রযুক্তি দুনিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—যে সফটওয়্যার একসময় কোটি কোটি ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কম্পিউটার অভিজ্ঞতার মূলভিত্তি ছিল।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারযোগ্য থাকবে, কিন্তু এতে নতুন কোনো নিরাপত্তা আপডেট বা ফিচার যুক্ত করা হবে না। ফলে ব্যবহারকারীরা সাইবার আক্রমণ, ভাইরাস সংক্রমণ ও ডেটা চুরির উচ্চ ঝুঁকিতে পড়বেন।
প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে—১৪ অক্টোবরের পর কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়লে তাদের কোনো দায় থাকবে না।

২০১৫ সালের জুলাইয়ে বাজারে আসে উইন্ডোজ ১০। এর আগে জনপ্রিয় ছিল উইন্ডোজ ৭, আর উইন্ডোজ ৮ তৈরি হয়েছিল টাচস্ক্রিন ডিভাইসের জন্য। এই দুই সংস্করণের সেরা বৈশিষ্ট্য মিলিয়েই তৈরি হয় উইন্ডোজ ১০, যেটিকে মাইক্রোসফট একসময় “শেষ অপারেটিং সিস্টেম” বলে ঘোষণা দিয়েছিল—যা নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে আরও উন্নত হবে বলে জানানো হয়েছিল।

কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে ২০২১ সালে মাইক্রোসফট উন্মোচন করে উইন্ডোজ ১১, যেখানে যুক্ত হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মেশিন লার্নিং ও নতুন ইউজার ইন্টারফেস।

তবে ব্যবহারকারীর, উইন্ডোজ ১১ ব্যবহার করতে গিয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হার্ডওয়্যার সীমাবদ্ধতা। ২০১৫ সালের আগে কেনা বেশিরভাগ কম্পিউটারে প্রয়োজনীয় উপাদান না থাকায় নতুন সিস্টেম চালানো সম্ভব নয়।
ফলে অনেক ব্যবহারকারীকে নতুন কম্পিউটার কিনতে বা পুরনো হার্ডওয়্যার আপগ্রেড করতে হচ্ছে—যা ব্যয়বহুল ও জটিল।

যদিও সাধারণ ব্যবহারকারীরা আর কোনো আপডেট পাবেন না, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে “এক্সটেন্ডেড সিকিউরিটি আপডেট (ESU)” সুবিধা নিতে পারবে। অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করে তারা আরও তিন বছর পর্যন্ত নিরাপত্তা আপডেট পাবেন।

প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যানালিস রিসার্চ জানিয়েছে, উইন্ডোজ ১০ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৪০ মিলিয়ন কম্পিউটার অকেজো হয়ে পড়বে। এসব ডিভাইসের বড় অংশ শেষমেশ ল্যান্ডফিলে জমা হবে, যা বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-ওয়েস্ট) সংকটকে আরও তীব্র করবে।

বর্তমানে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৫০ মিলিয়ন টন ই-ওয়েস্ট উৎপন্ন হয়—যার বড় অংশই পুরনো কম্পিউটার ও স্মার্টফোন থেকে আসে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নতুন করে কোটি কোটি ডিভাইস বাতিল হলে পরিবেশের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, মাইক্রোসফটের এই সিদ্ধান্ত একদিকে নতুন কম্পিউটারের চাহিদা বাড়াবে, অন্যদিকে ই-ওয়েস্ট ও ব্যয়বৃদ্ধির সংকট আরও গভীর করবে।

উইন্ডোজ ১০-এর অবসান তাই শুধু একটি সফটওয়্যারের বিদায় নয়—এটি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ১০ বন্ধ হয়ে গেল, প্রযুক্তি দুনিয়ায় এক যুগের সমাপ্তি

আপডেট: ১২:০০:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

নিউজ ডেস্ক: নিউজ ডেস্ক: প্রায় এক যুগের সফল যাত্রার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ১০।

মাইক্রোসফটের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবরের পর থেকে ‘উইন্ডোজ ১০’ এই সিস্টেম আর কোনো সিকিউরিটি আপডেট, বাগ ফিক্স বা টেকনিক্যাল সাপোর্ট পাবে না।

এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো প্রযুক্তি দুনিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—যে সফটওয়্যার একসময় কোটি কোটি ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কম্পিউটার অভিজ্ঞতার মূলভিত্তি ছিল।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারযোগ্য থাকবে, কিন্তু এতে নতুন কোনো নিরাপত্তা আপডেট বা ফিচার যুক্ত করা হবে না। ফলে ব্যবহারকারীরা সাইবার আক্রমণ, ভাইরাস সংক্রমণ ও ডেটা চুরির উচ্চ ঝুঁকিতে পড়বেন।
প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে—১৪ অক্টোবরের পর কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়লে তাদের কোনো দায় থাকবে না।

২০১৫ সালের জুলাইয়ে বাজারে আসে উইন্ডোজ ১০। এর আগে জনপ্রিয় ছিল উইন্ডোজ ৭, আর উইন্ডোজ ৮ তৈরি হয়েছিল টাচস্ক্রিন ডিভাইসের জন্য। এই দুই সংস্করণের সেরা বৈশিষ্ট্য মিলিয়েই তৈরি হয় উইন্ডোজ ১০, যেটিকে মাইক্রোসফট একসময় “শেষ অপারেটিং সিস্টেম” বলে ঘোষণা দিয়েছিল—যা নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে আরও উন্নত হবে বলে জানানো হয়েছিল।

কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে ২০২১ সালে মাইক্রোসফট উন্মোচন করে উইন্ডোজ ১১, যেখানে যুক্ত হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মেশিন লার্নিং ও নতুন ইউজার ইন্টারফেস।

তবে ব্যবহারকারীর, উইন্ডোজ ১১ ব্যবহার করতে গিয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হার্ডওয়্যার সীমাবদ্ধতা। ২০১৫ সালের আগে কেনা বেশিরভাগ কম্পিউটারে প্রয়োজনীয় উপাদান না থাকায় নতুন সিস্টেম চালানো সম্ভব নয়।
ফলে অনেক ব্যবহারকারীকে নতুন কম্পিউটার কিনতে বা পুরনো হার্ডওয়্যার আপগ্রেড করতে হচ্ছে—যা ব্যয়বহুল ও জটিল।

যদিও সাধারণ ব্যবহারকারীরা আর কোনো আপডেট পাবেন না, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে “এক্সটেন্ডেড সিকিউরিটি আপডেট (ESU)” সুবিধা নিতে পারবে। অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করে তারা আরও তিন বছর পর্যন্ত নিরাপত্তা আপডেট পাবেন।

প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যানালিস রিসার্চ জানিয়েছে, উইন্ডোজ ১০ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৪০ মিলিয়ন কম্পিউটার অকেজো হয়ে পড়বে। এসব ডিভাইসের বড় অংশ শেষমেশ ল্যান্ডফিলে জমা হবে, যা বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-ওয়েস্ট) সংকটকে আরও তীব্র করবে।

বর্তমানে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৫০ মিলিয়ন টন ই-ওয়েস্ট উৎপন্ন হয়—যার বড় অংশই পুরনো কম্পিউটার ও স্মার্টফোন থেকে আসে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নতুন করে কোটি কোটি ডিভাইস বাতিল হলে পরিবেশের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, মাইক্রোসফটের এই সিদ্ধান্ত একদিকে নতুন কম্পিউটারের চাহিদা বাড়াবে, অন্যদিকে ই-ওয়েস্ট ও ব্যয়বৃদ্ধির সংকট আরও গভীর করবে।

উইন্ডোজ ১০-এর অবসান তাই শুধু একটি সফটওয়্যারের বিদায় নয়—এটি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

শেয়ার করুন