যথাযোগ্য মর্যাদায় পঞ্চগড় মুক্ত দিবস উদযাপন

- আপডেট: ০৭:০৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
- / 30
পঞ্চগড় মুক্ত দিবস উপলক্ষে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ছবি : ইউএনএ
পঞ্চগড় মুক্ত দিবস আজ। দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। সকালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেন। পরে শহীদদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
সেখান থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে বধ্যভূমি স্মৃতিফলকে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী মো: সায়েমুজ্জামান বলেন, পঞ্চগড়ের মুক্ত দিবস আমাদের গৌরবের ইতিহাস। এই অঞ্চলের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ ধারণ করে বিজয়ের পথ তৈরি করেছিলেন। নতুন প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানতে হবে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগকে শ্রদ্ধা করতে হবে।তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রাখতে দেশপ্রেম, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে হবে।
সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সায়খুল ইসলাম, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আদম সুফি, সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) আব্দুল বারী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. আলাউদ্দিন প্রধান ১৯৭১ সালে পঞ্চগড়ের পরিস্থিতির বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, ২৫ মার্চের পর দেশজুড়ে আক্রমণ শুরু হলেও ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পঞ্চগড় মুক্ত ছিল। ১৭ এপ্রিল পাকবাহিনী পঞ্চগড় দখল করলেও তেঁতুলিয়া পুরো সময় হানাদারমুক্ত ছিল। মুক্তাঞ্চল হিসেবে তেঁতুলিয়া মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়, যেখানে অস্থায়ী সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ১ নভেম্বর থেকে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণে একের পর এক এলাকা মুক্ত হতে থাকে। ২০ থেকে ২৮ নভেম্বর অমরখানা, জগদলহাট, শিংপাড়া, পূর্ব তালমা, আটোয়ারী, মির্জাপুর, ধামোরসহ বিভিন্ন এলাকা শত্রুমুক্ত হয়। ২৮ নভেম্বর রাতে পাক সেনারা পিছু হটে এবং ২৯ নভেম্বর ভোরে পঞ্চগড় সম্পূর্ণভাবে হানাদারমুক্ত হয়।




















