০৫:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬

নজরদারির অভাবে কবরস্থান পরিণত অঘোষিত প্রস্রাবখানায়

শাহ আলী তৌফিক রিপন, কেন্দুয়া:
  • আপডেট: ০৫:৫১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 9

কেন্দুয়া পৌরসভার শহীদ মিনার সংলগ্ন একটি কবরস্থানের প্রধান গেইটে প্রতিদিন প্রকাশ্যে প্রস্রাব করছে অসংখ্য মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, দিনে কমপক্ষে এক হাজার মানুষ এই স্থানে প্রস্রাব করে থাকেন। এতে একদিকে পরিবেশ মারাত্মকভাবে নোংরা হচ্ছে, অন্যদিকে মৃতদের প্রতি চরম অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কবরস্থানের প্রধান ফটকের আশপাশে কোথাও কবরস্থান নির্দেশক কোনো সাইনবোর্ড নেই। নেই সতর্কতামূলক লেখা, নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা। ফলে পথচারী, যানবাহনের চালক এবং আশপাশের দোকানদাররা নির্বিঘ্নে জায়গাটিকে অঘোষিত প্রস্রাবখানা হিসেবে ব্যবহার করছেন।

স্থানীয় মুসল্লি ও সচেতন নাগরিকরা জানান, এটি একটি সক্রিয় কবরস্থান, যেখানে নিয়মিত দাফন কার্যক্রম হয়। শহীদ মিনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশেই এমন একটি পবিত্র স্থান দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকলেও এর দায় কেউ নিতে চাইছে না। কাগজে-কলমে কবরস্থানটির দায়িত্ব কেন্দুয়া পৌরসভার হলেও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে পুরাতন জামে মসজিদ কমিটি। তবে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের কাছ থেকেই দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। কবরস্থান এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই, সীমানা প্রাচীর ভাঙাচোরা, গেট অরক্ষিত এবং নিয়মিত তদারকির অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। পাশাপাশি আশপাশে কোনো পাবলিক টয়লেট না থাকায় সমস্যাটি আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দুয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাতুল ইসলাম বলেন, কবরস্থান একটি পবিত্র স্থান, এখানে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি ইতোমধ্যে তাদের নজরে এসেছে। দ্রুত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, গেট সংস্কার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং নজরদারি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মসজিদ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী সমাধান করা হবে।

সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এটি সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে রয়ে যাবে। তারা কবরস্থানটির সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণে পৌরসভার সরাসরি তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

নজরদারির অভাবে কবরস্থান পরিণত অঘোষিত প্রস্রাবখানায়

আপডেট: ০৫:৫১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

কেন্দুয়া পৌরসভার শহীদ মিনার সংলগ্ন একটি কবরস্থানের প্রধান গেইটে প্রতিদিন প্রকাশ্যে প্রস্রাব করছে অসংখ্য মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, দিনে কমপক্ষে এক হাজার মানুষ এই স্থানে প্রস্রাব করে থাকেন। এতে একদিকে পরিবেশ মারাত্মকভাবে নোংরা হচ্ছে, অন্যদিকে মৃতদের প্রতি চরম অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কবরস্থানের প্রধান ফটকের আশপাশে কোথাও কবরস্থান নির্দেশক কোনো সাইনবোর্ড নেই। নেই সতর্কতামূলক লেখা, নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা। ফলে পথচারী, যানবাহনের চালক এবং আশপাশের দোকানদাররা নির্বিঘ্নে জায়গাটিকে অঘোষিত প্রস্রাবখানা হিসেবে ব্যবহার করছেন।

স্থানীয় মুসল্লি ও সচেতন নাগরিকরা জানান, এটি একটি সক্রিয় কবরস্থান, যেখানে নিয়মিত দাফন কার্যক্রম হয়। শহীদ মিনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশেই এমন একটি পবিত্র স্থান দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকলেও এর দায় কেউ নিতে চাইছে না। কাগজে-কলমে কবরস্থানটির দায়িত্ব কেন্দুয়া পৌরসভার হলেও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে পুরাতন জামে মসজিদ কমিটি। তবে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের কাছ থেকেই দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। কবরস্থান এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই, সীমানা প্রাচীর ভাঙাচোরা, গেট অরক্ষিত এবং নিয়মিত তদারকির অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। পাশাপাশি আশপাশে কোনো পাবলিক টয়লেট না থাকায় সমস্যাটি আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দুয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাতুল ইসলাম বলেন, কবরস্থান একটি পবিত্র স্থান, এখানে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি ইতোমধ্যে তাদের নজরে এসেছে। দ্রুত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, গেট সংস্কার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং নজরদারি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মসজিদ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী সমাধান করা হবে।

সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এটি সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে রয়ে যাবে। তারা কবরস্থানটির সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণে পৌরসভার সরাসরি তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন