০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬

চোটের কারণে অবসরের কথা ভেবেছিলেন নেইমার

ইউএনএ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:০৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 8

দীর্ঘদিনের চোট আর মানসিক চাপ—এই দুইয়ের ভারে একসময় ফুটবলকেই বিদায় জানানোর কথা ভেবেছিলেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। সাম্প্রতিক হাঁটুর চোট তাকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল, যেখানে ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছিল সংশয়। তবে বাবার অনুপ্রেরণা আর নিজের লড়াইয়ের মানসিকতা তাকে আবার দিয়েছে মাঠে ফেরার শক্তি।

ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এখনো হাঁটুর মেনিস্কাসের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠেননি। তবে এর মধ্যেই গত মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সান্তোসের হয়ে মাঠে নেমে দলকে বড় সহায়তা করেছেন। গত ২২ ডিসেম্বর তার বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হয়।

৩৩ বছর বয়সী এই তারকার অস্ত্রোপচারের আগের মানসিক অবস্থার কথা একটি ইউটিউব সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন নেইমার সিনিয়র। রাফা টেসলা টি-এক্সপেরিয়েন্সিয়াস রেইস-এর সঙ্গে আলাপে তিনি জানান, চোটের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন নেইমার।

নেইমার সিনিয়র বলেন, ‘আমি তার বাসায় গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেমন আছ? সে আমাকে বলল—আমি আর পারছি না। চলো অস্ত্রোপচার করাই। জানি না এর পর ভালো হতে পারব কি না। মনে হচ্ছে সবকিছুই শেষ।’

ছেলের চোখে বিষণ্নতা স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলেন তিনি। সেই সময় নেইমারকে দুটি বিষয়ে মনোযোগ দিতে বলেন তার বাবা—সমালোচনার জবাব মাঠে ফিরে দেওয়া এবং বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে গিয়ে নেইমার এসিএল ও মেনিস্কাসে গুরুতর চোট পান। এরপর থেকেই দীর্ঘ পুনর্বাসন ও ফিটনেস সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি।

নেইমার সিনিয়র আরও বলেন, ‘আমি তাকে বলেছিলাম, তুমি যদি অস্ত্রোপচার করাও, আমরা শুধু সুস্থ হওয়ার দিকেই মন দেব। আমি সব সময় তোমার পাশে আছি।’

বাবার কথায় পরের দিনই মানসিক শক্তি ফিরে পান নেইমার। ট্রেনিংয়ে নেমে দুই পা দিয়েই শট নেন তিনি। এরপর আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমি পারব।’ মাঠে ফিরে গোলও করেন তিনি এবং জানান, শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সান্তোসে ফিরে ব্রাজিলিয়ান সিরি আ লিগের অর্ধেক সময় মাঠে থাকতে পেরেছেন নেইমার। লিগে তিনি করেন আটটি গোল, যার চারটি আসে মৌসুমের শেষ দিকে। তার এই পারফরম্যান্সের সুবাদেই অবনমন এড়াতে সক্ষম হয় সান্তোস।

আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের ব্রাজিলিয়ান সিরি আ শুরু হওয়ার আগেই পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন নেইমার। ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফরোয়ার্ড ১২৮ ম্যাচে করেছেন ৭৯ গোল এবং খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপ।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

চোটের কারণে অবসরের কথা ভেবেছিলেন নেইমার

আপডেট: ১২:০৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘদিনের চোট আর মানসিক চাপ—এই দুইয়ের ভারে একসময় ফুটবলকেই বিদায় জানানোর কথা ভেবেছিলেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। সাম্প্রতিক হাঁটুর চোট তাকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল, যেখানে ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছিল সংশয়। তবে বাবার অনুপ্রেরণা আর নিজের লড়াইয়ের মানসিকতা তাকে আবার দিয়েছে মাঠে ফেরার শক্তি।

ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এখনো হাঁটুর মেনিস্কাসের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠেননি। তবে এর মধ্যেই গত মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সান্তোসের হয়ে মাঠে নেমে দলকে বড় সহায়তা করেছেন। গত ২২ ডিসেম্বর তার বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হয়।

৩৩ বছর বয়সী এই তারকার অস্ত্রোপচারের আগের মানসিক অবস্থার কথা একটি ইউটিউব সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন নেইমার সিনিয়র। রাফা টেসলা টি-এক্সপেরিয়েন্সিয়াস রেইস-এর সঙ্গে আলাপে তিনি জানান, চোটের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন নেইমার।

নেইমার সিনিয়র বলেন, ‘আমি তার বাসায় গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেমন আছ? সে আমাকে বলল—আমি আর পারছি না। চলো অস্ত্রোপচার করাই। জানি না এর পর ভালো হতে পারব কি না। মনে হচ্ছে সবকিছুই শেষ।’

ছেলের চোখে বিষণ্নতা স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলেন তিনি। সেই সময় নেইমারকে দুটি বিষয়ে মনোযোগ দিতে বলেন তার বাবা—সমালোচনার জবাব মাঠে ফিরে দেওয়া এবং বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে গিয়ে নেইমার এসিএল ও মেনিস্কাসে গুরুতর চোট পান। এরপর থেকেই দীর্ঘ পুনর্বাসন ও ফিটনেস সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি।

নেইমার সিনিয়র আরও বলেন, ‘আমি তাকে বলেছিলাম, তুমি যদি অস্ত্রোপচার করাও, আমরা শুধু সুস্থ হওয়ার দিকেই মন দেব। আমি সব সময় তোমার পাশে আছি।’

বাবার কথায় পরের দিনই মানসিক শক্তি ফিরে পান নেইমার। ট্রেনিংয়ে নেমে দুই পা দিয়েই শট নেন তিনি। এরপর আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমি পারব।’ মাঠে ফিরে গোলও করেন তিনি এবং জানান, শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সান্তোসে ফিরে ব্রাজিলিয়ান সিরি আ লিগের অর্ধেক সময় মাঠে থাকতে পেরেছেন নেইমার। লিগে তিনি করেন আটটি গোল, যার চারটি আসে মৌসুমের শেষ দিকে। তার এই পারফরম্যান্সের সুবাদেই অবনমন এড়াতে সক্ষম হয় সান্তোস।

আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের ব্রাজিলিয়ান সিরি আ শুরু হওয়ার আগেই পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন নেইমার। ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফরোয়ার্ড ১২৮ ম্যাচে করেছেন ৭৯ গোল এবং খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপ।

শেয়ার করুন