সংগীত শিক্ষক নয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি হেফাজতের

- আপডেট: ০৭:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 73
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের প্রজ্ঞাপনকে ‘ইসলামবিরোধী পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলেছে, প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে বাতিল না হলে তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান এ হুঁশিয়ারি দেন। তারা বলেন, ইসলামে বাদ্যযন্ত্র হারাম এবং সংগীত কোনো মৌলিক শিক্ষা নয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের অভিভাবকদের মতামত উপেক্ষা করে প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত চাপিয়ে দেওয়া অগ্রহণযোগ্য।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংগীত শিক্ষকের পরিবর্তে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। তা না হলে ইসলামি মূল্যবোধ ও ঈমান রক্ষার প্রশ্নে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ। তারা মুসলিম জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
হেফাজত নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ‘ডি-ইসলামাইজেশন প্রকল্প’ বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও কিছু এনজিওকর্মীর চাপে সেই পুরনো এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তাদের দাবি, বহুদিন ধরে ইসলামি দলগুলো প্রাথমিক স্তরে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছে। অথচ সেটি উপেক্ষা করে সংগীত শিক্ষক নিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা মুসলিম সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তারা বলেন, বাংলা, অংক ও ইংরেজির মতো মৌলিক বিষয়গুলোতেই প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা দুর্বল। অথচ সরকারের উচিত ছিল যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক দিয়ে মৌলিক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষার মান উন্নয়ন করা।
হেফাজতের আমির ও মহাসচিব বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অসংখ্য মাদরাসা শিক্ষার্থী ও আলেম শহীদ হয়েছেন। অন্তত তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হলেও সরকারকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে, যা একদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে ইসলামি মূল্যবোধের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। তারা আরও বলেন, সংগীত শিক্ষকের পরিবর্তে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে উদ্যোগ না নিলে আলেম-ওলামার সঙ্গে সরকারের অপ্রত্যাশিত সংঘাত তৈরি হতে পারে।




















