টেকনাফে সীমান্তের গুলিতে আহত হুজাইফা আফনান মারা গেলো

- আপডেট: ০২:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 4
মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত টেকনাফের শিশু হুজাইফা আফনান (১২) দীর্ঘ ২৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে মৃত্যুবরণ করেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হুজাইফার চাচা শওকত আলী জানিয়েছেন, “সকালে চিকিৎসকরা হুজাইফাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। সবাই আমার ভাতিজার জন্য দোয়া করবেন।”
শিশুটি গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় মিয়ানমারের ওপার থেকে আসা গুলিতে গুরুতর আহত হয়। তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে অবস্থা খারাপ হওয়ায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর মাথায় বিদ্ধ গুলিটি অপসারণ সম্ভব না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ তখন জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচার করা হলেও মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। তবে মস্তিষ্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েছে। মংডু টাউনশিপের আশপাশের এলাকায় সরকারি বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষের কারণে সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের জনপদেও গোলাগুলির প্রভাব পড়ছে।
টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় গুলির শব্দে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে, ছোড়া গুলি লোকজনের বসতঘর, চিংড়িঘের ও নাফ নদীতে এসে পড়ছে। হুজাইফার মৃত্যুতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পৃথক বার্তায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী গভীর শোক ও হুজাইফার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। স্থানীয়রা সীমান্তে নিরস্ত্র মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন।















