১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা, এবার শত্রুপক্ষকে ভয়ংকর হুমকি ইরানের

ইউএনএ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 9

ভেনেজুয়েলায় ঢুকে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যাপারে বেশ সতর্ক হয়ে উঠেছেন বিশ্বনেতারা। এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানেও হামলার হুমকি দিয়ে বসেছেন তিনি। এর একদিন যেতে না যেতেই ইরান, লেবানন এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের সঙ্গে ‘যুগপৎ’ যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে জোর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন মদদপুষ্ট ইসরায়েল।

একের পর এক এমন হুমকির প্রতিক্রিয়ায় এবার শত্রুদের ওপর আগাম হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানও। গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দেয় ‘ইরানিয়ান ডিফেন্স কাউন্সিল’। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বাজতে শুরু করেছে ভয়ংকর যুদ্ধের দামামা।

ইরানের প্রতিরক্ষা বিষয়ক নতুন গঠিত এ কাউন্সিল তাদের বিবৃতিতে জানায়, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা দেশটিতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। কাউন্সিল জোর দিয়ে বলেছে, আক্রান্ত হওয়ার পর শুধু পাল্টা জবাব দেওয়ার মধ্যেই তারা নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখবে না, বরং নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো ‘দৃশ্যমান হুমকির লক্ষণ’ বিবেচনায় নিয়ে তারা পদক্ষেপ নেবে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য সামরিক মহড়া চালানোর দুই দিন পর এ হুঁশিয়ারি এলো।

মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার মানের চরম পতনের কারণে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইরান জুড়ে। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সরাসরি স্বীকার করেছে, ইরানে চলমান এ বিক্ষোভে তাদের হাত আছে। বিক্ষোভে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে ইরানের বর্তমান সরকার উৎখাতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। এই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে বেশ হিমশিম খাচ্ছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এমন পরিস্থিতিতেই শত্রুপক্ষের ওপর আগাম হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিবৃতি জারি করলো ইরানিয়ান ডিফেন্স কাউন্সিল।

২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পর গঠিত হয় এই কাউন্সিল। তারা বলেছে, ইরানের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার বিষয় তাদের কাছে ‘রেডলাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা, যা কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা শত্রুতামূলক আচরণের উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। যারা আক্রমণ করবে, তাদের একই কায়দায় পাল্টা আঘাত করা হবে। তবে বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

ইরানের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা তেহরান টাইমসও আগাম আত্মরক্ষামূলক হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে। এর মাধ্যমে কাউন্সিলের দেওয়া বার্তাই আবার নিশ্চিত করা হলো।

ইরানিয়ান ডিফেন্স কাউন্সিলের এ বিবৃতির পরই শত্রুপক্ষের উদ্দেশে আরও এক কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেছেন,  ‘যেকোনো আক্রমণকারীর হাত আমরা কেটে দেব।’

এসব বক্তব্য এমন এক সময় এল, যখন ইতিমধ্যেই অস্থির হয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। এখন ইরানের এমন হুঁশিয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা ও আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকে ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ২০২৬ সালেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার সম্ভাবনার কথা তুলেছেন নেতানিয়াহু।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা, এবার শত্রুপক্ষকে ভয়ংকর হুমকি ইরানের

আপডেট: ০১:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ঢুকে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যাপারে বেশ সতর্ক হয়ে উঠেছেন বিশ্বনেতারা। এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানেও হামলার হুমকি দিয়ে বসেছেন তিনি। এর একদিন যেতে না যেতেই ইরান, লেবানন এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের সঙ্গে ‘যুগপৎ’ যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে জোর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন মদদপুষ্ট ইসরায়েল।

একের পর এক এমন হুমকির প্রতিক্রিয়ায় এবার শত্রুদের ওপর আগাম হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানও। গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দেয় ‘ইরানিয়ান ডিফেন্স কাউন্সিল’। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বাজতে শুরু করেছে ভয়ংকর যুদ্ধের দামামা।

ইরানের প্রতিরক্ষা বিষয়ক নতুন গঠিত এ কাউন্সিল তাদের বিবৃতিতে জানায়, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা দেশটিতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। কাউন্সিল জোর দিয়ে বলেছে, আক্রান্ত হওয়ার পর শুধু পাল্টা জবাব দেওয়ার মধ্যেই তারা নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখবে না, বরং নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো ‘দৃশ্যমান হুমকির লক্ষণ’ বিবেচনায় নিয়ে তারা পদক্ষেপ নেবে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য সামরিক মহড়া চালানোর দুই দিন পর এ হুঁশিয়ারি এলো।

মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার মানের চরম পতনের কারণে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইরান জুড়ে। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সরাসরি স্বীকার করেছে, ইরানে চলমান এ বিক্ষোভে তাদের হাত আছে। বিক্ষোভে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে ইরানের বর্তমান সরকার উৎখাতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। এই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে বেশ হিমশিম খাচ্ছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এমন পরিস্থিতিতেই শত্রুপক্ষের ওপর আগাম হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিবৃতি জারি করলো ইরানিয়ান ডিফেন্স কাউন্সিল।

২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পর গঠিত হয় এই কাউন্সিল। তারা বলেছে, ইরানের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার বিষয় তাদের কাছে ‘রেডলাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা, যা কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা শত্রুতামূলক আচরণের উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। যারা আক্রমণ করবে, তাদের একই কায়দায় পাল্টা আঘাত করা হবে। তবে বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

ইরানের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা তেহরান টাইমসও আগাম আত্মরক্ষামূলক হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে। এর মাধ্যমে কাউন্সিলের দেওয়া বার্তাই আবার নিশ্চিত করা হলো।

ইরানিয়ান ডিফেন্স কাউন্সিলের এ বিবৃতির পরই শত্রুপক্ষের উদ্দেশে আরও এক কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেছেন,  ‘যেকোনো আক্রমণকারীর হাত আমরা কেটে দেব।’

এসব বক্তব্য এমন এক সময় এল, যখন ইতিমধ্যেই অস্থির হয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। এখন ইরানের এমন হুঁশিয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা ও আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকে ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ২০২৬ সালেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার সম্ভাবনার কথা তুলেছেন নেতানিয়াহু।

শেয়ার করুন