১৬ মাসের মেয়েকে নদে ফেলে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করলেন মা

- আপডেট: ০৭:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 12
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় ১৬ মাসের মেয়েকে আত্রাই নদে ফেলে দিয়েছেন মা। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্তানকে পানিতে ফেলে দেওয়ার পর থানা পুলিশের কাছে গিয়ে নিজের গ্রেপ্তার দাবি করেন ওই মা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সদস্যরা।
তারা দেখেন, শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে শুশ্রূষা করছেন এক ব্যক্তি। পরে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় শিশুটিকে। আপাতত শিশুটি শঙ্কামুক্ত আছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে পত্নীতলা উপজেলার মাহমুদপুর সেতু থেকে শিশুটিকে আত্রাই নদে ফেলে দেন ওই মা। পরিবারের লোকজনের দাবি, ওই নারী মানসিকভাবে অসুস্থ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শিশুটির জন্মের পর থেকে ওই নারী অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ওই মা। সেখান থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে মাহমুদপুর সেতুর ওপর থেকে শিশুটিকে আত্রাই নদে ফেলে দেন তিনি। এরপর পত্নীতলা থানায় গিয়ে পুলিশকে জানান, নিজের সন্তানকে নদীতে ফেলে দিয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তার করার অনুরোধ করেন।
শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করায় খমির শেখকে আর্থিক পুরস্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার।
এরপর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় বলে জানান পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে নদীর তীরে স্থানীয় বাসিন্দা খমির শেখ (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে শিশুটির শুশ্রূষা করতে দেখা যায়। তিনি নদীর পানিতে থেকে ডুবন্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে বিশেষ কৌশলে শিশুর পেট থেকে পানি বের করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
বর্তমানে শিশুটির দেখভাল পরিবারের অন্য সদস্যরা করছেন বলে শিশুটির বাবা জানান। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী কিছুদিন যাবৎ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, যার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এতটা পাগলামি করবে, এটা আমরা ভাবতে পারিনি। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে আমার মেয়ের দেখভাল পরিবারের অন্য লোকজন করছে। মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় আমার স্ত্রীকে মেয়ের পাশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।’
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ওই নারী মানসিকভাবে অসুস্থ। তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চিকিৎসার জন্য তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধার করে জীবন বাঁচানোয় খমির শেখকে পুলিশের পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।




















