নারায়ণগঞ্জে ফ্ল্যাটে স্বামী-স্ত্রী ও ৪ বছরের সন্তানের মরদেহ উদ্ধার

- আপডেট: ০৮:৫২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 73
নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল বউবাজার এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্বামী, স্ত্রী ও তাদের চার বছর বয়সি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন— হাবিবুল্লাহ শিপলু (৩৫), তার স্ত্রী মোহিনী আক্তার মীম (২৫) এবং তাদের ছেলে আফরান (৪)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়রা বিকেলে পুলিশকে খবর দিলে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। ভাড়া ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ও তালা লাগানো থাকায় স্বজন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়।
ভেতরে হাবিবুল্লাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। অপর একটি কক্ষে তার স্ত্রী ও ছেলেকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়; তাদের মুখের ওপর বালিশ রাখা ছিল।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে— শিপলু প্রথমে স্ত্রী ও সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং পরে নিজে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের ফলাফল ও তদন্তের প্রতিবেদন অপেক্ষা করতে হবে।
পুলিশ জানতে পেরেছে, শিপলু ‘রমজান সমিতি’ নামে একটি সমিতির ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। সূত্রের খবর, করোনা মহামারির সময় ওই সমিতির কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায় এবং পরে সমিতির মালিক গ্রাহকের জমা রাখা বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে উধাও হন। সেই ঘটনার পর গ্রাহকরা সমিতির মালিক ও শিপলুর বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশের ধারণা, মামলার চাপ ও মানসিক কষ্টের কারণে শিপলু হতাশাগ্রস্ত ছিলেন।
নিহত শিপলুর বড় ভাই অলিউল্লাহ লাভলু জানান, রোববার রাত থেকেই তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি। ফোনে যোগাযোগ না পেয়ে সোমবার বিকেলে স্বজনরা ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেন। দরজা ভাঙার পরই তারা শিপলুকে ঝুলে ও ভাতিজার মুখে বালিশ দেখে ভীতিকর দৃশ্যের মুখে পড়েন, বললেন তিনি।
ওসি নাছির উদ্দিন বলেছেন, ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে; এটি আত্মহত্যা না পরিকল্পিত হত্যা—সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের পাশাপাশি মোবাইল, সমিতির হিসাব-নিকাশ ও ঘটনার অন্যান্য দিকও তদন্তে নেওয়া হবে। আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় সূত্রে বলা হয়েছে, বাবুরাইল বউবাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রমজান সমিতির কার্যক্রম ছিল এবং বহু গ্রাহক সেখানে টাকা রাখতেন। সমিতি বন্ধ হওয়ার পর অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঘটনার প্রেক্ষাপট হিসেবে তা পুলিশ দেখছে।




















