০৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে সমাপ্তি ঘটেছে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা

জাহিদুল কবির মধুপুর ( টাংগাইল ) প্রতিনিধি:
  • আপডেট: ১০:৪১:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
  • / 125

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়। ছবি / ইউএনএ

সারা দেশে ন্যায় টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

বৃহস্পতি (২ অক্টোবর) বিকেলে মধুপুর পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিসর্জন ঘাটে গিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়।

শোভাযাত্রায় হাজারো তরুণ-তরুণী অংশ নেন। ঢাক-ঢোলের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। তরুণ-তরুণীরা নাচে-গানে মাতিয়ে তোলেন পরিবেশ। পূজা মণ্ডপ থেকে মণ্ডপে ছিল উৎসবমুখর আবহ।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়। ছবি / ইউএনএ

এ বছর মধুপুর উপজেলায় মোট ৫৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। তার মধ্যে পৌরশহরে ২৪টি ছিল। প্রতিটি মণ্ডপে প্রতিমা বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের মধুপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক বলেন, “প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা নির্ভয়ে ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করতে পেরেছি। এতে আমরা কৃতজ্ঞ।”

বিসর্জনকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, আনসার ও ভলান্টিয়ারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও মধুপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূজা উদ্‌যাপন নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন জানান,“ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন উৎসব উপভোগ করতে পারে, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ায় আমরা স্বস্তি প্রকাশ করছি।”
পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব শেষে ভক্তরা আবেগঘন পরিবেশে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। তাদের বিশ্বাস, আগামী বছর আবারও মর্ত্যে আবির্ভূত হয়ে দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটাবেন এবং ভক্তদের কল্যাণ বয়ে আনবেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন, মধুপুর থানায় ইনচার্জ এমরানুল কবীর, বিএনপির কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, আরোও উপস্থিত ছিলেন এড. মোহাম্মদ আলী, মধুপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক অলক কুমার চৌধুরী স্বপন, বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মী প্রমূখ

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে সমাপ্তি ঘটেছে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা

আপডেট: ১০:৪১:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়। ছবি / ইউএনএ

সারা দেশে ন্যায় টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

বৃহস্পতি (২ অক্টোবর) বিকেলে মধুপুর পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিসর্জন ঘাটে গিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়।

শোভাযাত্রায় হাজারো তরুণ-তরুণী অংশ নেন। ঢাক-ঢোলের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। তরুণ-তরুণীরা নাচে-গানে মাতিয়ে তোলেন পরিবেশ। পূজা মণ্ডপ থেকে মণ্ডপে ছিল উৎসবমুখর আবহ।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়। ছবি / ইউএনএ

এ বছর মধুপুর উপজেলায় মোট ৫৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। তার মধ্যে পৌরশহরে ২৪টি ছিল। প্রতিটি মণ্ডপে প্রতিমা বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের মধুপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক বলেন, “প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা নির্ভয়ে ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করতে পেরেছি। এতে আমরা কৃতজ্ঞ।”

বিসর্জনকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, আনসার ও ভলান্টিয়ারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও মধুপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূজা উদ্‌যাপন নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন জানান,“ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন উৎসব উপভোগ করতে পারে, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ায় আমরা স্বস্তি প্রকাশ করছি।”
পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব শেষে ভক্তরা আবেগঘন পরিবেশে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। তাদের বিশ্বাস, আগামী বছর আবারও মর্ত্যে আবির্ভূত হয়ে দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটাবেন এবং ভক্তদের কল্যাণ বয়ে আনবেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন, মধুপুর থানায় ইনচার্জ এমরানুল কবীর, বিএনপির কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, আরোও উপস্থিত ছিলেন এড. মোহাম্মদ আলী, মধুপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক অলক কুমার চৌধুরী স্বপন, বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মী প্রমূখ

শেয়ার করুন