০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ছয় দফার দাবিতে কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন

ইউএনএ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:২২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 178

বিএসসি ডিগ্রিধারীদের উত্থাপিত তিন দফা দাবিকে ‘অযৌক্তিক ও ষড়যন্ত্রমূলক’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে এবং কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের উত্থাপিত ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সাতরাস্তা মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, “প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন” নামের সংগঠনটি ডিগ্রিধারীদের তিন দফা দাবি তুলে প্রকৌশল খাতে বিভাজন তৈরি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, এসব প্রস্তাব আসলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের অধিকার খর্ব ও রাষ্ট্রকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র।

সংগঠনটির সহপ্রধান কার্যনির্বাহী উপদেষ্টা সাইদুর রহমান বলেন, ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতির জিও এবং ১৯৯৪ সালের প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে উপসহকারী প্রকৌশলী পদ কেবল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সংরক্ষিত এবং তাদের জন্য ১০ম গ্রেড নির্ধারিত। অথচ একই বিষয় পুনরায় সামনে এনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন।

তিনি আরও বলেন, “এই ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ইন্ধন দিচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা সংস্থাকে অনুরোধ জানাচ্ছি।”

কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কাগজে-কলমে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ১০ম থেকে ৯ম গ্রেডে পদোন্নতির হার ৩৩% হলেও বাস্তবে তা নেমে এসেছে মাত্র ১৫–১৭%-এ। ফলে অনেকে পুরো চাকরি জীবন কাটিয়েও সহকারী প্রকৌশলী পদে উন্নীত হতে পারেন না।

তাদের দাবি, ডিগ্রিধারীরা যে ১০০% ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার দশম গ্রেডে নিয়োগ পান বলে প্রচার করছে—এটি “সুস্পষ্ট মিথ্যাচার।”

আন্দোলনকারীরা বলেন, প্রকৌশলীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনের নামে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেটি আসলে প্রহসন। সেখানে ১৪ জন ডিগ্রি প্রকৌশলী রাখা হলেও মাত্র একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এ কমিটি নিরপেক্ষ নয়, বরং অযৌক্তিক তিন দফা বাস্তবায়নের হাতিয়ার।

কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সরকারের উদ্দেশে তিনটি অবস্থান স্পষ্ট করেছেন—
১) উপসহকারী প্রকৌশলী পদ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের স্বীকৃত অধিকার, এটি পরিবর্তনের চেষ্টা রাষ্ট্রবিরোধী কাজ হিসেবে গণ্য হবে।
২) নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ কমিটি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।
৩) প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের মিথ্যাচার ও চাপের কাছে সরকার নতি স্বীকার করলে তা হবে সরকারের চরম ব্যর্থতা।

সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দাবি আদায়ে যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তবে বুধবার থেকে সারাদেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হবে। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচিরও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ছয় দফার দাবিতে কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: ০৪:২২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিএসসি ডিগ্রিধারীদের উত্থাপিত তিন দফা দাবিকে ‘অযৌক্তিক ও ষড়যন্ত্রমূলক’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে এবং কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের উত্থাপিত ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সাতরাস্তা মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, “প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন” নামের সংগঠনটি ডিগ্রিধারীদের তিন দফা দাবি তুলে প্রকৌশল খাতে বিভাজন তৈরি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, এসব প্রস্তাব আসলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের অধিকার খর্ব ও রাষ্ট্রকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র।

সংগঠনটির সহপ্রধান কার্যনির্বাহী উপদেষ্টা সাইদুর রহমান বলেন, ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতির জিও এবং ১৯৯৪ সালের প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে উপসহকারী প্রকৌশলী পদ কেবল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সংরক্ষিত এবং তাদের জন্য ১০ম গ্রেড নির্ধারিত। অথচ একই বিষয় পুনরায় সামনে এনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন।

তিনি আরও বলেন, “এই ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ইন্ধন দিচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা সংস্থাকে অনুরোধ জানাচ্ছি।”

কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কাগজে-কলমে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ১০ম থেকে ৯ম গ্রেডে পদোন্নতির হার ৩৩% হলেও বাস্তবে তা নেমে এসেছে মাত্র ১৫–১৭%-এ। ফলে অনেকে পুরো চাকরি জীবন কাটিয়েও সহকারী প্রকৌশলী পদে উন্নীত হতে পারেন না।

তাদের দাবি, ডিগ্রিধারীরা যে ১০০% ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার দশম গ্রেডে নিয়োগ পান বলে প্রচার করছে—এটি “সুস্পষ্ট মিথ্যাচার।”

আন্দোলনকারীরা বলেন, প্রকৌশলীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনের নামে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেটি আসলে প্রহসন। সেখানে ১৪ জন ডিগ্রি প্রকৌশলী রাখা হলেও মাত্র একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এ কমিটি নিরপেক্ষ নয়, বরং অযৌক্তিক তিন দফা বাস্তবায়নের হাতিয়ার।

কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সরকারের উদ্দেশে তিনটি অবস্থান স্পষ্ট করেছেন—
১) উপসহকারী প্রকৌশলী পদ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের স্বীকৃত অধিকার, এটি পরিবর্তনের চেষ্টা রাষ্ট্রবিরোধী কাজ হিসেবে গণ্য হবে।
২) নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ কমিটি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।
৩) প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের মিথ্যাচার ও চাপের কাছে সরকার নতি স্বীকার করলে তা হবে সরকারের চরম ব্যর্থতা।

সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দাবি আদায়ে যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তবে বুধবার থেকে সারাদেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হবে। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচিরও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন