০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মায়ের সঙ্গে কারাগারে যেতে হলো ১১ দিনের শিশুকে

ইউএনএ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:১৯:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 57

খুলনায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে নবজাতক চুরির মামলা। সাত দিন ধরে হাসপাতালে মায়ের সঙ্গে বন্দি থাকার পর অবশেষে রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ১১ দিনের শিশুকে নিয়ে তার মা শাহজাদীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রোববার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার পর শাহজাদীকে খুলনার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না, এমনকি কেউ জামিন আবেদনও করেননি। শুনানি ছাড়াই আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ফলে বাইরে শিশুটির দেখাশোনার কেউ না থাকায় শিশুকন্যাকেও মায়ের সঙ্গে খুলনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ১১ সেপ্টেম্বর খুলনার রূপসার একটি হাসপাতালে শাহজাদীর কোলজুড়ে আসে পঞ্চম সন্তান। তার স্বামী সিরাজুল ইসলাম ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ছেলে সন্তান প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ায় তারা হাসপাতালেই শাহজাদীকে ফেলে চলে যান। তারপর থেকে আর কোনো খোঁজ নেননি।

এরই মধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর একই হাসপাতাল থেকে চার দিনের এক নবজাতক ছেলে চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের তৎপরতায় শিশুটি দ্রুত উদ্ধার করা হয় শাহজাদীর মা নার্গিস বেগমের (৫৫) কাছ থেকে। গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে মানবপাচার আইনে মামলা হয় শাহজাদী ও তার মাকে আসামি করে।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপক এনামুল হক জানান, শিশুর জন্মের আগেই পরিবারের সদস্যরা আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে ছেলে হবে ভেবে রেখেছিলেন। কিন্তু কন্যা সন্তান হওয়ায় স্বামী সিরাজুল ইসলাম হাসপাতাল থেকে চলে যান এবং আর ফেরেননি। রোববার ছাড়পত্রের দিনও তিনি বা শিশুর মামা আসেননি। শাহজাদীর চিকিৎসার বিল পরিশোধ করেছেন দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহীন কবির বলেন, “শাহজাদী সুস্থ হয়ে যাওয়ায় তাকে আদালতে তোলা হয়েছে। আদালত যে আদেশ দিয়েছেন আমরা সেটিই কার্যকর করেছি।”

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বোধন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, আদালতে শিশুর বিষয়ে আলাদা করে কোনো আবেদন বা আলোচনা হয়নি। তবে মানবিক বিবেচনায় শিশুটিকে মায়ের সঙ্গেই কারাগারে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশুর জন্মকে ঘিরে পারিবারিক অবহেলা, হতাশা এবং সমাজে প্রচলিত ছেলে সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষাই এই ট্র্যাজেডির মূল কারণ বলে অনেকে মনে করছেন।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

মায়ের সঙ্গে কারাগারে যেতে হলো ১১ দিনের শিশুকে

আপডেট: ০৩:১৯:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

খুলনায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে নবজাতক চুরির মামলা। সাত দিন ধরে হাসপাতালে মায়ের সঙ্গে বন্দি থাকার পর অবশেষে রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ১১ দিনের শিশুকে নিয়ে তার মা শাহজাদীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রোববার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার পর শাহজাদীকে খুলনার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না, এমনকি কেউ জামিন আবেদনও করেননি। শুনানি ছাড়াই আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ফলে বাইরে শিশুটির দেখাশোনার কেউ না থাকায় শিশুকন্যাকেও মায়ের সঙ্গে খুলনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ১১ সেপ্টেম্বর খুলনার রূপসার একটি হাসপাতালে শাহজাদীর কোলজুড়ে আসে পঞ্চম সন্তান। তার স্বামী সিরাজুল ইসলাম ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ছেলে সন্তান প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ায় তারা হাসপাতালেই শাহজাদীকে ফেলে চলে যান। তারপর থেকে আর কোনো খোঁজ নেননি।

এরই মধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর একই হাসপাতাল থেকে চার দিনের এক নবজাতক ছেলে চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের তৎপরতায় শিশুটি দ্রুত উদ্ধার করা হয় শাহজাদীর মা নার্গিস বেগমের (৫৫) কাছ থেকে। গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে মানবপাচার আইনে মামলা হয় শাহজাদী ও তার মাকে আসামি করে।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপক এনামুল হক জানান, শিশুর জন্মের আগেই পরিবারের সদস্যরা আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে ছেলে হবে ভেবে রেখেছিলেন। কিন্তু কন্যা সন্তান হওয়ায় স্বামী সিরাজুল ইসলাম হাসপাতাল থেকে চলে যান এবং আর ফেরেননি। রোববার ছাড়পত্রের দিনও তিনি বা শিশুর মামা আসেননি। শাহজাদীর চিকিৎসার বিল পরিশোধ করেছেন দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহীন কবির বলেন, “শাহজাদী সুস্থ হয়ে যাওয়ায় তাকে আদালতে তোলা হয়েছে। আদালত যে আদেশ দিয়েছেন আমরা সেটিই কার্যকর করেছি।”

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বোধন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, আদালতে শিশুর বিষয়ে আলাদা করে কোনো আবেদন বা আলোচনা হয়নি। তবে মানবিক বিবেচনায় শিশুটিকে মায়ের সঙ্গেই কারাগারে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশুর জন্মকে ঘিরে পারিবারিক অবহেলা, হতাশা এবং সমাজে প্রচলিত ছেলে সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষাই এই ট্র্যাজেডির মূল কারণ বলে অনেকে মনে করছেন।

শেয়ার করুন