কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব রূপে মুগ্ধ পঞ্চগড়

- আপডেট: ০৬:৫২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 162
টানা কয়েক দিনের মেঘ আর অনিশ্চয়তার পর অবশেষে দুই দিন ধরে স্বচ্ছ নীল আকাশে ধরা দিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘার বিরল দৃশ্য। শুক্রবার ভোর থেকেই পঞ্চগড়ের আকাশ ছিল শান্ত ও মেঘমুক্ত। হালকা লালাভ রঙ ছড়িয়ে দেওয়া মেঘের আড়াল ভেদ করে দেখা মিলেছে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার।
দুর্লভ এই দৃশ্য দেখতে সকাল থেকেই উৎসুক জনতার ভিড় জমে জেলা শহর ও তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে। করতোয়া সেতু, মহানন্দা নদীর তীর কিংবা ডাকবাংলো—সবখানেই দেখা গেছে পর্যটকের আনাগোনা। কেউ থেমে ছবি তুলেছেন, কেউ আবার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন।
বগুড়া থেকে আসা এক ভ্রমণপিপাসু সজল শেখ জানান, এখানে এসে আমি অভিভূত। গত কয়েক বছর ধরে আমি কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসি। এবার আমি আমার ছোট মেয়ে ও ছোট ভাই নিয়ে এসেছি। আবারও নিজের চোখে দেখলাম। আর চারদিকে কাশফুল-এটা যেন রূপকথার কোনো জায়গা।
ঢাকা থেকে আসা আবু নাইম পর্যটক বলেন, সকালবেলা হঠাৎ করেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা দিল। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই ছবি তুলি। এটি জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।
দিনাজপুর থেকে বেড়াতে আসা রওনক জাহান বলেন, ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারে হঠাৎ করেই চোখে পড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা। দৃশ্যটা এতটাই মনোমুগ্ধকর ছিল যে মোবাইলে কয়েকটি ছবি তুলে রাখতেই হলো।
পর্যটকদের মতে, এখান থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ভোরবেলা কিংবা সকালে, আকাশ পরিষ্কার থাকলেই দেখা মেলে বরফে ঢাকা সেই রাজশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা।
টুরিস্ট পুলিশ পঞ্চগড় জোনের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাব্বুল ইসলাম জানান, গত দুইদিন ধরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাওয়ার পর্যটক সমাগম ঘটেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদান করে যাচ্ছি। যেকোনো সমস্যায় পর্যটকরা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহযোগিতা পাবেন। তারা যেন নির্বিঘ্নে তাদের ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তেঁতুলিয়া থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার রাজকীয় রূপ। প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এ যেন এক অমূল্য উপহার। ভাগ্য সহায় হলে তেঁতুলিয়ার আকাশে দেখা মিলবে হিমালয়ের বরফঢাকা সেই শৃঙ্গ-কাঞ্চনজঙ্ঘা।
শরতের আলোঝলমল দিনে কাঞ্চনজঙ্ঘার এই অপূর্ব আবির্ভাব শুধু পর্যটক নয়, স্থানীয়দেরও করে তুলেছে উচ্ছ্বসিত।




















