০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

৬ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের সরকারে অচলাবস্থা

ইউএনএ নিউজ:
  • আপডেট: ১২:০০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
  • / 78

অর্থবছরের শেষ দিনেও প্রশাসনের ব্যয়-সংক্রান্ত বিল নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা একমত হতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে এ-সংক্রান্ত বিল পাস করা যায়নি। ফলে ছয় বছর পর আবারও শাটডাউন বা অচলাবস্থার মুখে পড়েছে মার্কিন সরকার।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ছাড় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জরুরি সেবা ছাড়া অন্য সব সরকারি কাজ বন্ধ থাকছে। বিমান চলাচলসহ অনেক জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।

এ অচলাবস্থার প্রভাব পড়ছে বিশ্বের নানা দেশে মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রমে। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের লোগোর ছবিসহ দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ‘পূর্ণ কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত বরাদ্দের ঘাটতির কারণে জরুরি নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্য ব্যতীত এ অ্যাকাউন্টটি নিয়মিত আপডেট করা হবে না। এ সময়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত পাসপোর্ট ও ভিসা সার্ভিস অব্যাহত থাকবে।’

বিবিসি লিখেছে, অচলাবস্থার কারণে মার্কিন ফেডারেল সরকারের ৪০ শতাংশ কর্মী অবৈতনিক ছুটিতে গেছেন। এ সংখ্যা সাড়ে সাত লাখের চেয়ে কম নয়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের শাটডাউন হয় ২০১৮-১৯ সালে। তখনও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এবার শাটডাউন হলে ফেডারেল সরকারে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

তাঁর নির্দেশনা অনুসারে, কয়েক দিন আগেই অফিস অব বাজেট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোকে ‘জনবল হ্রাসের’ পরিকল্পনার খসড়া তৈরি শুরু করতে বলেছে। সাধারণভাবে এ ধরনের শাটডাউনের ক্ষেত্রে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মীরা ‘আনপেইড লিভ’ অর্থাৎ, অবৈতনিক ছুটিতে থাকেন।

আলজাজিরা লিখেছে, শাটডাউনের কারণে বিভিন্ন দেশে ভিসা সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের ৮৩ শতাংশ কর্মীকে অবৈতনিক কর্মবিরতিতে পাঠিয়েছে। গতকাল বুধবার ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে তারা বলছে, নাসা সরকারি অর্থায়নের অভাবে সাময়িক বন্ধ থাকবে।
স্বর্ণের দাম বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রতি আউন্সের দাম হয়েছে ৩ হাজার ৮৯৫ ডলার। পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন পার্কের সেবা কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেছে। ৯ হাজার ২০০-এর বেশি কর্মীকে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবারই ছিল চলতি অর্থবছরের শেষ দিন। এদিনই সরকারের ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ তহবিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সিনেটে বিলটি নিয়ে একমত হতে পারেননি রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। গতকাল বুধবার বিবিসি জানায়, সাধারণত পহেলা অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার আগে যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তাহলে শাটডাউন তৈরি হয়।

হোয়াইট হাউস তাদের ওয়েবসাইটে শাটডাউনের কাউন্টডাউন ঘড়ি চালু করেছে। এতে ‘ডেমোক্র্যাট শাটডাউন’ শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মার্কিনিরা ডেমোক্র্যাটদের কাজের সঙ্গে একমত নয়। তবে ডেমোক্র্যাটরা এ পরিস্থিতির জন্য রিপাবলিকানদের দোষারোপ করছেন। দেশটির কংগ্রেসের উভয় কক্ষ এখন রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। তার পরও তারা বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট নিশ্চিত করতে পারেনি। সিনেটে বিলের পক্ষে প্রয়োজনীয় ৬০টি ভোট নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিলটির পক্ষে ৫৫ ও বিপক্ষে ৪৫ ভোট পড়েছে। সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন আছে।

সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্র্যাট নেতা কমলা হ্যারিস এক্সে লেখেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা শাটডাউন করে দিয়েছেন। তারা জনগণের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিতে চাচ্ছেন না। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতা স্পিকার মাইক জনসন বলেন, সরকারের কার্যক্রম বন্ধ করতে ডেমোক্র্যাটরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট দিয়েছেন।

সরকারি অচলাবস্থার কারণে ভ্রমণকারী বা যাত্রীদের বিমান চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে। দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানায়, ফ্লাইট চলবে, তবে বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটবে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার ও নিরাপত্তাকর্মীদের কাজ গুরুত্বপূর্ণ। শাটডাউনের কারণে তাদের বেতন বন্ধ থাকবে। এর আগে যতগুলো শাটডাউন হয়েছে, তাতে বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ট্রেন চলাচলেও।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৮০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ বার এমন শাটডাউনের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সময়ে এটি এক থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান কম সময়ের জন্য হলেও আটবার এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছিলেন। কিন্তু ৯০ এর দশকে এসে এমন শাটডাউনের সময় বেড়েছে। বিল ক্লিনটন ১৯৯৫-৯৬ সালে ও জর্জ ডব্লিউ বুশ ১৯৯০ সালে অচলাবস্থা মোকাবিলা করেন।

২০১৩ সালে বারাক ওবামা শাটডাউন দেখেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প মেয়াদে দুবার এ ঘটনা ঘটল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষের ছুটির মুখে লাখ লাখ মার্কিনির দুর্ভোগের শঙ্কার মধ্যে অর্থ বিল পাস করে মার্কিন ফেডারেল সরকার শাটডাউন এড়ায়।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

৬ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের সরকারে অচলাবস্থা

আপডেট: ১২:০০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

অর্থবছরের শেষ দিনেও প্রশাসনের ব্যয়-সংক্রান্ত বিল নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা একমত হতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে এ-সংক্রান্ত বিল পাস করা যায়নি। ফলে ছয় বছর পর আবারও শাটডাউন বা অচলাবস্থার মুখে পড়েছে মার্কিন সরকার।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ছাড় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জরুরি সেবা ছাড়া অন্য সব সরকারি কাজ বন্ধ থাকছে। বিমান চলাচলসহ অনেক জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।

এ অচলাবস্থার প্রভাব পড়ছে বিশ্বের নানা দেশে মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রমে। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের লোগোর ছবিসহ দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ‘পূর্ণ কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত বরাদ্দের ঘাটতির কারণে জরুরি নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্য ব্যতীত এ অ্যাকাউন্টটি নিয়মিত আপডেট করা হবে না। এ সময়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত পাসপোর্ট ও ভিসা সার্ভিস অব্যাহত থাকবে।’

বিবিসি লিখেছে, অচলাবস্থার কারণে মার্কিন ফেডারেল সরকারের ৪০ শতাংশ কর্মী অবৈতনিক ছুটিতে গেছেন। এ সংখ্যা সাড়ে সাত লাখের চেয়ে কম নয়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের শাটডাউন হয় ২০১৮-১৯ সালে। তখনও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এবার শাটডাউন হলে ফেডারেল সরকারে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

তাঁর নির্দেশনা অনুসারে, কয়েক দিন আগেই অফিস অব বাজেট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোকে ‘জনবল হ্রাসের’ পরিকল্পনার খসড়া তৈরি শুরু করতে বলেছে। সাধারণভাবে এ ধরনের শাটডাউনের ক্ষেত্রে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মীরা ‘আনপেইড লিভ’ অর্থাৎ, অবৈতনিক ছুটিতে থাকেন।

আলজাজিরা লিখেছে, শাটডাউনের কারণে বিভিন্ন দেশে ভিসা সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের ৮৩ শতাংশ কর্মীকে অবৈতনিক কর্মবিরতিতে পাঠিয়েছে। গতকাল বুধবার ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে তারা বলছে, নাসা সরকারি অর্থায়নের অভাবে সাময়িক বন্ধ থাকবে।
স্বর্ণের দাম বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রতি আউন্সের দাম হয়েছে ৩ হাজার ৮৯৫ ডলার। পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন পার্কের সেবা কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেছে। ৯ হাজার ২০০-এর বেশি কর্মীকে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবারই ছিল চলতি অর্থবছরের শেষ দিন। এদিনই সরকারের ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ তহবিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সিনেটে বিলটি নিয়ে একমত হতে পারেননি রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। গতকাল বুধবার বিবিসি জানায়, সাধারণত পহেলা অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার আগে যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তাহলে শাটডাউন তৈরি হয়।

হোয়াইট হাউস তাদের ওয়েবসাইটে শাটডাউনের কাউন্টডাউন ঘড়ি চালু করেছে। এতে ‘ডেমোক্র্যাট শাটডাউন’ শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মার্কিনিরা ডেমোক্র্যাটদের কাজের সঙ্গে একমত নয়। তবে ডেমোক্র্যাটরা এ পরিস্থিতির জন্য রিপাবলিকানদের দোষারোপ করছেন। দেশটির কংগ্রেসের উভয় কক্ষ এখন রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। তার পরও তারা বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট নিশ্চিত করতে পারেনি। সিনেটে বিলের পক্ষে প্রয়োজনীয় ৬০টি ভোট নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিলটির পক্ষে ৫৫ ও বিপক্ষে ৪৫ ভোট পড়েছে। সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন আছে।

সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্র্যাট নেতা কমলা হ্যারিস এক্সে লেখেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা শাটডাউন করে দিয়েছেন। তারা জনগণের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিতে চাচ্ছেন না। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতা স্পিকার মাইক জনসন বলেন, সরকারের কার্যক্রম বন্ধ করতে ডেমোক্র্যাটরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট দিয়েছেন।

সরকারি অচলাবস্থার কারণে ভ্রমণকারী বা যাত্রীদের বিমান চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে। দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানায়, ফ্লাইট চলবে, তবে বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটবে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার ও নিরাপত্তাকর্মীদের কাজ গুরুত্বপূর্ণ। শাটডাউনের কারণে তাদের বেতন বন্ধ থাকবে। এর আগে যতগুলো শাটডাউন হয়েছে, তাতে বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ট্রেন চলাচলেও।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৮০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ বার এমন শাটডাউনের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সময়ে এটি এক থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান কম সময়ের জন্য হলেও আটবার এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছিলেন। কিন্তু ৯০ এর দশকে এসে এমন শাটডাউনের সময় বেড়েছে। বিল ক্লিনটন ১৯৯৫-৯৬ সালে ও জর্জ ডব্লিউ বুশ ১৯৯০ সালে অচলাবস্থা মোকাবিলা করেন।

২০১৩ সালে বারাক ওবামা শাটডাউন দেখেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প মেয়াদে দুবার এ ঘটনা ঘটল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষের ছুটির মুখে লাখ লাখ মার্কিনির দুর্ভোগের শঙ্কার মধ্যে অর্থ বিল পাস করে মার্কিন ফেডারেল সরকার শাটডাউন এড়ায়।

শেয়ার করুন