গোপালপুরের এইচএসসিতে জিপিএ-ফাইভ পেলো ওরা

- আপডেট: ০৭:৪৩:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
- / 64
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় গোপালপুর উপজেলায় হতাশাজনক ফলাফলের মধ্যেও, পুরো উপজেলায় গোপালপুর সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান শাখায় জিপিএ-৫ পেয়ে আশার আলো দেখিয়েছে তিন শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীরা হলেন, আলমনগর ইউনিয়নের মাদারজানী গ্রামের কৃষক মুক্তার হোসেন ও ফরিদা বেগম দম্পতির বড় ছেলে শেখ ফরিদ; পৌর শহরের সুতী পটলপাড়া এলাকার ফজলুর রহমান ও আছমা খাতুন দম্পতির কন্যা ফারজানা রহমান চৈতি; এবং হাদিরা ইউনিয়নের ভাড়ারিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম ও আমিনা বেগম দম্পতির বড় সন্তান মোছা. নাহিদা খাতুন।
এছাড়াও খন্দকার আসাদুজ্জামান একাডেমী থেকে কারিগরি শাখায়, গোপালপুরের রেজাউল ইসলাম তালুকদার ও আমিনা পারভীন পারুল কণ্যা তাসকিন নামের এক শিক্ষার্থী জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন।
শেখ ফরিদ জানান, আলমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪.৮৯ জিপিএ পেয়ে এসএসসি পাস করেছিলেন। তিনি বাড়ি থেকে সাইকেলে নিয়মিত কলেজে যাতায়াত করতেন। কৃষক বাবা তাঁর পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খেলেও কখনও পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটতে দেননি। তাদের সামান্য জমি থেকে ১৫ শতাংশ বন্ধক রেখে বাবাই পড়াশোনার খরচ দিতেন। এবার এইচএসসিতে গোপালপুর উপজেলার সর্বোচ্চ ৫.০০ পয়েন্ট পেয়েছেন। পড়ালেখা অব্যাহত রেখে প্রশাসন ক্যাডারে বিসিএস করে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চান।
ফারজানা রহমান চৈতি জানান, নন্দনপুর রাধারানী পাইলট গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসিতে ৫.০০ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তাঁর বাবা ঢাকায় একটি সরকারি দপ্তরের কর্মচারী। বাবা-মায়ের উৎসাহেই ভালো পড়াশোনা করেছেন এবং এবার এইচএসসিতে সর্বোচ্চ ৫.০০ পয়েন্ট অর্জন করেছেন। ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান।
মোছা. নাহিদা খাতুন জানান, ভেঙ্গুলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৪.৮৯ পেয়ে এসএসসি পাস করেছিলেন। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও দূর থেকে ভ্যান ও অটোরিকশায় নিয়মিত কলেজে যাতায়াত করতেন। তাঁর বাবা পেশায় পিকআপ চালক। বাবার স্বপ্ন, মেয়েটি ডাক্তার হোক। সেই স্বপ্ন পূরণে তিনি পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই ডাক্তার হতে চান নাহিদা। এজন্য সকলের দোয়া চেয়েছেন। এবারে তিনি এইচএসসিতে ৫.০০ পয়েন্ট পেয়েছেন।
গোপালপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ একেএম আহসান হাবীব বলেন, গোপালপুরের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে চায় না, নিয়মিত ক্লাস করলে আরো ভালো ফলাফল হতো। গোপালপুরে এবার ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে, চেষ্টা করতেছি আগামীতে আরো ভালো ফলাফল করার।




















