ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ শিবিরের ভিপি প্রার্থীর স্ত্রীর

- আপডেট: ০১:১২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 11
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের বাইরে ছাত্রশিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থীর স্ত্রী ভোটের প্রচার চালাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রশিবির-আপ বাংলাদেশ-ইনকিলাব মঞ্চ সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী মহিমা আক্তার এই পরিস্থিতির মুখে পড়েন বলে অভিযোগ করেন। মহিমা আক্তার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সদ্য সাবেক শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হিজাব ও মাস্ক পরিহিত অবস্থায় মহিমা ক্যাম্পাসের বাইরে ভোট চাচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তার পরিচয় জানতে চেয়ে মাস্ক ও নিকাব খুলতে বললে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহিমাকে উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী মহিমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন, কিন্তু ছাত্রদলের কর্মীরা এসে তাকে উদ্দেশ্য করে ‘মব’ তৈরি করে এবং তার হিজাব ও মুখের মাস্ক খুলতে বাধ্য করার চেষ্টা করে হেনস্তা করে।
ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামও একই দাবি করে বলেন, তার স্ত্রী প্যানেলের হয়ে কাজ করছিলেন এবং সকালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। তবে ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন হেনস্তার কোনো ঘটনা ঘটেনি; বরং একজন সাবেক শিক্ষার্থী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন শুনে শিক্ষকরা অবহিত করলে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক জানিয়েছেন বিষয়টি নজরে আসার পর তারা দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করেছেন। দীর্ঘ দুই দশক পর অনুষ্ঠিত এই জকসু নির্বাচনে মোট ১৬ হাজার ৬৪৫ জন ভোটার ভোট দিচ্ছেন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বেলা ৩টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলার কথা রয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদের বিপরীতে চারটি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১৫৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মূলত ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল দুটির মধ্যেই মূল লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।




















