০৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাভারে সাত মাসে ৬ খুন, নেপথ্যে ভবঘুরে সম্রাট

ইউএনএ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 29

সাভারে ৬ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পুলিশের তদন্ত বেরিয়ে এসেছেন চঞ্চল্যকর তথ্য। ভবঘুরে মশিউর রহমান খান সম্রাট (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আরাফাতুল ইসলাম সাভার মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তাকৃত মশিউর রহমান খান সম্রাট সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনী মহল্লার মৃত সালামের ছেলে। তিনি সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। গত সাত মাসে ৬ খুনের পেছেনে সম্রাট জড়িত বলে দাবি পুলিশের।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, সম্রাট ভবঘুরে ছিলেন। প্রায় সাত মাস আগে সে সাভার পৌর এলাকার মডেল মসজিদের পাশে আসমা নামে এক বৃদ্ধাকে প্রথমে খুন করে। এরপরে ২৯ আগস্ট রাতে সে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে হাত-পা বেঁধে এক যুবককে হত্যা করে। এরপরে ১১ অক্টোবর রাতে আবারও সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত (৩০) এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরপরে ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড়ে মহল্লার পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। সেই সিসি ক্যামেরায় দেখে গতকাল জোড়া হত্যার ঘটনায় আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এসময় পুলিশ সুপার আরও বলেন, আসামি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত সম্রাটকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে নিহত ৫ জনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী, ওসি অপারেশন হেলাল উদ্দিনসহ সাভার মডেল থানার পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সাভারে সাত মাসে ৬ খুন, নেপথ্যে ভবঘুরে সম্রাট

আপডেট: ০৩:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

সাভারে ৬ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পুলিশের তদন্ত বেরিয়ে এসেছেন চঞ্চল্যকর তথ্য। ভবঘুরে মশিউর রহমান খান সম্রাট (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আরাফাতুল ইসলাম সাভার মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তাকৃত মশিউর রহমান খান সম্রাট সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনী মহল্লার মৃত সালামের ছেলে। তিনি সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। গত সাত মাসে ৬ খুনের পেছেনে সম্রাট জড়িত বলে দাবি পুলিশের।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, সম্রাট ভবঘুরে ছিলেন। প্রায় সাত মাস আগে সে সাভার পৌর এলাকার মডেল মসজিদের পাশে আসমা নামে এক বৃদ্ধাকে প্রথমে খুন করে। এরপরে ২৯ আগস্ট রাতে সে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে হাত-পা বেঁধে এক যুবককে হত্যা করে। এরপরে ১১ অক্টোবর রাতে আবারও সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত (৩০) এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরপরে ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড়ে মহল্লার পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। সেই সিসি ক্যামেরায় দেখে গতকাল জোড়া হত্যার ঘটনায় আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এসময় পুলিশ সুপার আরও বলেন, আসামি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত সম্রাটকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে নিহত ৫ জনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী, ওসি অপারেশন হেলাল উদ্দিনসহ সাভার মডেল থানার পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন