০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গোপালপুরে চুরি, ডাকাতি ও অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের জরুরি সভা

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
  • আপডেট: ০৮:০৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 27

নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এতে পৌরশহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি পৌরশহরের সমেশপুর মহল্লায় এক শিক্ষকের বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পুলিশ মামলা গ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ ছাড়া প্রায় প্রতিরাতেই গরু চুরি, বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে চুরির ঘটনা ঘটছে। মোটরসাইকেল, সাইকেলসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী চুরি হচ্ছে নিয়মিত।

চোরেরা বৈদ্যুতিক মোটর, হস্তচালিত নলকূপের হ্যান্ডেল, স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদের ফ্যান পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাচ্ছে। সেচ স্কিমের বৈদ্যুতিক মিটারও প্রতিরাতে চুরির শিকার হচ্ছে। নাগরিকদের অভিযোগ, এসব অপরাধের সঙ্গে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত ও মাদকসেবীরা জড়িত। তাদের উপদ্রবে সন্ধ্যার পর বাসাবাড়ির দরজা-জানালা খোলা রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঘটিবাটি, জামা-কাপড়, জুতো, বালতি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী চুরি যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর উপজেলা শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়েও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরি প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, তার কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমান।

সভায় বক্তব্য দেন গোপালপুর সেনা ক্যাম্প কমান্ডার মেজর হারুন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নবাব আলী, থানার ওসি (তদন্ত) সালাউদ্দীন আহমেদ, উপজেলা জামায়াতের আমীর হাবিবুর রহমান, প্রেসক্লাব সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানসহ অন্যরা।

সভায় সেনা ক্যাম্প কমান্ডার মেজর হারুন বলেন, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা অবনতির যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। ওসি (তদন্ত) সালাউদ্দীন আহমেদ জানান, থানা পুলিশ পরিস্থিতি উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং দুষ্কৃতকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরি বন্ধে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

গোপালপুরে চুরি, ডাকাতি ও অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের জরুরি সভা

আপডেট: ০৮:০৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এতে পৌরশহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি পৌরশহরের সমেশপুর মহল্লায় এক শিক্ষকের বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পুলিশ মামলা গ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ ছাড়া প্রায় প্রতিরাতেই গরু চুরি, বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে চুরির ঘটনা ঘটছে। মোটরসাইকেল, সাইকেলসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী চুরি হচ্ছে নিয়মিত।

চোরেরা বৈদ্যুতিক মোটর, হস্তচালিত নলকূপের হ্যান্ডেল, স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদের ফ্যান পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাচ্ছে। সেচ স্কিমের বৈদ্যুতিক মিটারও প্রতিরাতে চুরির শিকার হচ্ছে। নাগরিকদের অভিযোগ, এসব অপরাধের সঙ্গে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত ও মাদকসেবীরা জড়িত। তাদের উপদ্রবে সন্ধ্যার পর বাসাবাড়ির দরজা-জানালা খোলা রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঘটিবাটি, জামা-কাপড়, জুতো, বালতি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী চুরি যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর উপজেলা শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়েও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরি প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, তার কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমান।

সভায় বক্তব্য দেন গোপালপুর সেনা ক্যাম্প কমান্ডার মেজর হারুন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নবাব আলী, থানার ওসি (তদন্ত) সালাউদ্দীন আহমেদ, উপজেলা জামায়াতের আমীর হাবিবুর রহমান, প্রেসক্লাব সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানসহ অন্যরা।

সভায় সেনা ক্যাম্প কমান্ডার মেজর হারুন বলেন, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা অবনতির যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। ওসি (তদন্ত) সালাউদ্দীন আহমেদ জানান, থানা পুলিশ পরিস্থিতি উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং দুষ্কৃতকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরি বন্ধে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন