০৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

কে হচ্ছেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুঞাপুর) আসনের কান্ডারি?

মো. রুবেল আহমেদ, গোপালপুর, টাঙ্গাইল:
  • আপডেট: ০১:৪১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 558

ঐতিহ্যগতভাবে, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা ১৩১ টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) নির্বাচনী আসন। এরশাদ সরকারের আমলে একবার ছাড়া, সব নির্বাচনেই ক্ষমতাসীন সরকার নিজ দলীয় সংসদ সদস্য পেয়েছে এই আসনে। গোপালপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা এবং ভূঞাপূর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসন ।
দলীয় কোন্দল না থাকায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এই আসনে বিভিন্ন দলের সাম্ভব্য প্রার্থীরা ফুরফুরে মেজাজে গনসংযোগ, জনসভা ও নির্বাচনের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায়, ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা হিসাবে এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন, দীর্ঘ ১৭ বৎসর কারাগারে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান, সাবেক উপমন্ত্রী ও ৩বারের সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। এজন্য নিয়মিত জনসভা, গনসংযোগসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

দলের কেন্দ্রীয় সবুজ সংকেত পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর টাঙ্গাইল জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ূন কবির এবং গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও উচ্চতর পরিষদের সদস্য শাকিল উজ্জামান, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন ভূঞাপুর উপজেলার শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা মুফতি ফাজলে রাব্বি, জাকের পার্টির টাঙ্গাইল জেলা পশ্চিম শাখার সভাপতি এনামুল হক মঞ্জু, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, টাঙ্গাইল জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি রফিকুল ইসলাম ভোটারদের সমর্থন পেতে নিয়মিত গনসংযোগ করে যাচ্ছেন। তফসিল ঘোষণা হলে বিভিন্ন দলের আরো প্রার্থী দেখা যেতে পারে।

বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। অন্যায়ের সাথে আপোষ করিনি বলেই কারাগারে ফাঁসির সেলে বিভিন্ন নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তবুও বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের সাথে বেইমানি করিনি। মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও উন্নত গোপালপুর-ভূঞাপুর গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।

জামায়াত নেতা মাওলানা হুমায়ূন কবির বলেন, দলীয় প্রাথমিক সংকেত পেয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমার প্রধান লক্ষ্য এখানকার রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করা। যখন যেই বিরোধী দলে যায়, তারা নির্যাতিত হচ্ছে এগুলো দুর করা। এমপি নির্বাচিত হলে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন করার পাশাপাশি ধর্মীয় স্থাপনায় সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গনঅধিকার পরিষদের শাকিল উজ্জামান বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এ গনঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছেন তরুনরা। জনগণ এখন সচেতন তাই আগামী নির্বাচনে মানুষ তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে আমাকে ভোট দিবে। গোপালপুর ও ভুঞাপুরের উন্নয়ন ও মানুষের উন্নত জীবন গড়াই আমার লক্ষ্য।

এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪ হাজার ২৭১ জন। নিবন্ধিত নতুন ভোটার ১৮ হাজার ৬৩৫ জন।

এই আসনে ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে আ. লীগের হাতেম আলী তালুকদার, ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে আফাজ উদ্দিন ফকির, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির শামছুল হক তালুকদার ছানু, ১৯৮৮ সালে জাসদের আব্দুল মতিন হিরু, ১৯৯১ সালে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু, ১৯৯৬ সালে পুনরায় নির্বাচনে আ. লীগের সাবেক সচিব খন্দকার আসাদুজ্জামান, ২০০১ সালে বিএনপির অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু, ২০০৮ সাল ও ২০১৪ সালে আ. লীগের খন্দকার আসাদুজ্জামান, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আ’লীগের ছোট মনির সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শেয়ার করুন
ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

কে হচ্ছেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুঞাপুর) আসনের কান্ডারি?

আপডেট: ০১:৪১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

ঐতিহ্যগতভাবে, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা ১৩১ টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) নির্বাচনী আসন। এরশাদ সরকারের আমলে একবার ছাড়া, সব নির্বাচনেই ক্ষমতাসীন সরকার নিজ দলীয় সংসদ সদস্য পেয়েছে এই আসনে। গোপালপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা এবং ভূঞাপূর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসন ।
দলীয় কোন্দল না থাকায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এই আসনে বিভিন্ন দলের সাম্ভব্য প্রার্থীরা ফুরফুরে মেজাজে গনসংযোগ, জনসভা ও নির্বাচনের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায়, ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা হিসাবে এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন, দীর্ঘ ১৭ বৎসর কারাগারে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান, সাবেক উপমন্ত্রী ও ৩বারের সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। এজন্য নিয়মিত জনসভা, গনসংযোগসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

দলের কেন্দ্রীয় সবুজ সংকেত পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর টাঙ্গাইল জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ূন কবির এবং গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও উচ্চতর পরিষদের সদস্য শাকিল উজ্জামান, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন ভূঞাপুর উপজেলার শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা মুফতি ফাজলে রাব্বি, জাকের পার্টির টাঙ্গাইল জেলা পশ্চিম শাখার সভাপতি এনামুল হক মঞ্জু, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, টাঙ্গাইল জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি রফিকুল ইসলাম ভোটারদের সমর্থন পেতে নিয়মিত গনসংযোগ করে যাচ্ছেন। তফসিল ঘোষণা হলে বিভিন্ন দলের আরো প্রার্থী দেখা যেতে পারে।

বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। অন্যায়ের সাথে আপোষ করিনি বলেই কারাগারে ফাঁসির সেলে বিভিন্ন নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তবুও বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের সাথে বেইমানি করিনি। মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও উন্নত গোপালপুর-ভূঞাপুর গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।

জামায়াত নেতা মাওলানা হুমায়ূন কবির বলেন, দলীয় প্রাথমিক সংকেত পেয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমার প্রধান লক্ষ্য এখানকার রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করা। যখন যেই বিরোধী দলে যায়, তারা নির্যাতিত হচ্ছে এগুলো দুর করা। এমপি নির্বাচিত হলে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন করার পাশাপাশি ধর্মীয় স্থাপনায় সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গনঅধিকার পরিষদের শাকিল উজ্জামান বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এ গনঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছেন তরুনরা। জনগণ এখন সচেতন তাই আগামী নির্বাচনে মানুষ তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে আমাকে ভোট দিবে। গোপালপুর ও ভুঞাপুরের উন্নয়ন ও মানুষের উন্নত জীবন গড়াই আমার লক্ষ্য।

এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪ হাজার ২৭১ জন। নিবন্ধিত নতুন ভোটার ১৮ হাজার ৬৩৫ জন।

এই আসনে ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে আ. লীগের হাতেম আলী তালুকদার, ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে আফাজ উদ্দিন ফকির, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির শামছুল হক তালুকদার ছানু, ১৯৮৮ সালে জাসদের আব্দুল মতিন হিরু, ১৯৯১ সালে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু, ১৯৯৬ সালে পুনরায় নির্বাচনে আ. লীগের সাবেক সচিব খন্দকার আসাদুজ্জামান, ২০০১ সালে বিএনপির অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু, ২০০৮ সাল ও ২০১৪ সালে আ. লীগের খন্দকার আসাদুজ্জামান, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আ’লীগের ছোট মনির সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শেয়ার করুন